মহোৎসবের আমেজে কলকাতায় সাহিত্য ও সুরের মেলবন্ধন, হাজির থাকছেন বিশিষ্টরা!

দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে সাংস্কৃতিক নগরী কলকাতায় এক বিশেষ চমক। আগামী ৮ অক্টোবর মহাজাতি সদনে আয়োজিত হতে চলেছে ‘শিকল ভাঙার গল্প’ নামক এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান। ‘লে রিদম’ নামক অলাভজনক সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এই বিশেষ সন্ধ্যাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শহরের সংস্কৃতিপ্রেমী মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, মহাজাতি সদনের এই মঞ্চে নিজের লেখা কবিতা পাঠ করবেন তসলিমা নাসরিন। শুধু সাহিত্য পাঠই নয়, অনুষ্ঠানটির সাংস্কৃতিক পর্বটিকে সমৃদ্ধ করতে থাকছে গান ও নাচের অনন্য পরিবেশনা। সোমদত্তা বন্দ্যোপাধ্যায়, মৌসুমী হোসেন এবং পিয়ালী হালদারের কণ্ঠে তসলিমা নাসরিনের লেখা কবিতা ও গান মঞ্চ মাতাবে। গানগুলিতে সুর দিয়েছেন মৌসুমী হোসেন। পাশাপাশি, দেবী বন্দনার এক বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করবেন মৈত্রেয়ী পাহাড়ী। সব মিলিয়ে পুজোর ঢাক বাজার আগেই শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব ত্রিবেণী সঙ্গমে মেতে উঠবে তিলোত্তমা।
সাহিত্যের আসরের পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সামাজিক স্বীকৃতি ও সম্মাননা। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা কৃতী নারীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ‘ঊমা সম্মান’। পাশাপাশি, শিল্প ও সমাজসেবায় দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে প্রদান করা হবে ‘রিনি মুখোপাধ্যায় লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’।
দিল্লিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘লে রিদম’ মূলত শিল্প-সংস্কৃতির প্রসার এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজ করে থাকে। প্রয়াত প্লেব্যাক গায়িকা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রিনি মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে এই সংস্থার পথচলা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাজীব মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানাবিধ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। কেবল শিল্পচর্চাই নয়, শিশু, যুবসমাজ, প্রান্তিক পরিবার এবং বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এই সংস্থা। অতীতে ওয়াই-টোয়েন্টি (Y20), জি-টোয়েন্টি (G20), এবং রাজ্য সরকারের ‘বঙ্গ মেলা’সহ দেশের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে ‘লে রিদম’-এর শিল্পীরা।
সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাজীব মুখোপাধ্যায়ের মতে, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলাই ছিল রিনি মুখোপাধ্যায়ের মূল স্বপ্ন। সেই আদর্শকে সামনে রেখেই শিল্পকে সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে এগিয়ে নিয়ে চলেছে সংস্থাটি। আগামী ৮ অক্টোবরের এই অনুষ্ঠান সেই ধারাবাহিকতারই এক উজ্জ্বল নিদর্শন হতে চলেছে, যেখানে তসলিমা নাসরিনের উপস্থিতি এবং সম্মাননা প্রদান পর্ব পুজোর আবহকে আরও বেশি বর্ণময় করে তুলবে।