‘নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আবর্জনামুক্ত করতে হবে!’ সিইসি-র ইস্তফা দাবিতে আন্দোলনকারীদের খোলাখুলি সমর্থন বিশিষ্ট সমাজকর্মীর

দেশজুড়ে ভোটচুরির অভিযোগ এবং ভোটার তালিকা নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইতিমধ্যেই ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় এবার আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে মুম্বাইসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃহত্তর রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। আর এই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের সমর্থনে মুখ খুললেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।

নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ‘আবর্জনামুক্ত’ করার ডাক

অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলনকে সাধুবাদ জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের টানে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ আবর্জনামুক্ত ও স্বচ্ছ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনের মধ্যে জবাবদিহিতা তৈরি করতে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে কালিমামুক্ত রাখতে এই ধরনের আন্দোলন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন তিনি।

সোনম ওয়াংচুক কি সশরীরে থাকবেন আন্দোলনে?

এর আগে নেট (NEET) আন্দোলনের সময় ককরোচ জনতা পার্টির মঞ্চে সরাসরি উপস্থিত থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে একটানা অনশন চালিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, জ্ঞানেশের পদত্যাগের এই লড়াইয়েও কি তাঁকে আগের মতো সরাসরি মাঠে দেখা যাবে?

এই বিষয়ে সোনম পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে এই মুহূর্তে তিনি সশরীরে কোনো আন্দোলনে অংশ নিতে পারছেন না। তবে মানসিকভাবে এবং নৈতিকভাবে তাঁর সম্পূর্ণ সমর্থন এই লড়াইয়ের সঙ্গে রয়েছে। তিনি বলেন, “এর আগে যন্তর মন্তরে যখন CJP আন্দোলন করেছিল, তখন তারা আকারে ছোট ও দুর্বল ছিল। আজ তাদের কণ্ঠস্বর অনেক বেশি জোরালো এবং তা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আশা করি এবার বহু মানুষ এই আন্দোলনে এগিয়ে আসবেন।”

গান্ধী জয়ন্তীতে প্রতিবাদের বিশেষ তাৎপর্য

২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর মতো পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনে দেশজুড়ে প্রতিবাদের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছেন সোনম। মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিবসে সত্য ও ন্যায়ের লড়াইয়ে নামার এই সিদ্ধান্ত আন্দোলনকে আরও নৈতিক ভিত্তি দেবে বলে মনে করছেন তিনি। একদিকে ঠাকরে পরিবারের মুম্বাই কাঁপানোর হুংকার এবং অন্যদিকে সোনম ওয়াংচুকের মতো বিশিষ্ট সমাজকর্মীদের নৈতিক সমর্থন—সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই চাপ যে আগামী দিনে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *