“পাকিস্তানে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কোনও প্রমাণ নেই”

ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর পাকিস্তানের বালাকোটে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দাবি করলেও বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতা দিগ্বিজয় সিং বলেছেন ভিন্ন কথা। পাকিস্তানে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বিষয়ে সোমবার নতুন তথ্য সামনে এনেছেন কংগ্রেসের এই নেতা। তিনি বলেছেন, বালাকোটে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কোনও প্রমাণই নেই।

সোমবার জম্মুতে এক ভাষণে দিগ্বিজয় সিং বলেছেন, তারা (কেন্দ্র) বলেছে পাকিস্তানে অনেক লোকজনকে হত্যা করেছে। কিন্তু এর কোনও প্রমাণ নেই। গেরুয়া শিবিরের শাসন মিথ্যার উপর ভিত্তি করে চলছে বলেও মন্তব্য করেন কংগ্রেসের এই নেতা।

সিংয়ের এমন দাবির পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া। তিনি বলেছেন, দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেওয়া কংগ্রেসের চরিত্র। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে দেশ সহ্য করবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি রাহুল গান্ধী এবং দিগ্বিজয় সিংয়ের ঘৃণার কারণে তাদের মধ্যে দেশপ্রেমের আর কোনও বালাই নেই।

২০১৯ সালে কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতের আধা-সামরিক বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার পরপর সীমান্ত ডিঙিয়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভীরে ঢুকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমান থেকে জয়েশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দাবি করেছিল ভারতের সরকার।

ভারতীয় বিমান বাহিনী সেই সময় গণমাধ্যমের কাছে স্যাটেলাইট চিত্র উপস্থাপন করে। ওই চিত্রে খাইবার পাখতুনখাওয়ার একটি ভবনের ছাদে তিনটি গর্ত দেখা যায়। এসব গর্ত স্পাইস বোমা হামলার আলামত বহন করছে বলে জানায় ভারতীয় বিমানবাহিনী।

২০১৬ সালের উরিতে হামলার পর পুলওয়ামার ওই হামলা জম্মু ও কাশ্মিরে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে দাবি করে ভারতের সরকার। এই হামলার পর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দাবি করে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় ভারতীয় আধা-সামরিক বাহিনী সিআরপিএফের গাড়িবহরে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ির আঘাতে অন্তত ৪৪ জওয়ান নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। পাকিস্তান-ভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদ পুলওয়ামা হামলার দায় স্বীকার করেছিল।

কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং সেই ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ জনের বেশি সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়েছিলেন। সিআরপিএফ আহত সৈন্যদের শ্রীনগর থেকে দিল্লিতে হেলিকপ্টার যোগে নিতে চেয়েছিল। কারণ ওই এলাকাটি ছিল স্পর্শকাতর। কিন্তু সিআরপিএফের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল কেন্দ্র। সঠিকভাবে তল্লাশি চালানো হলে সিআরপিএফের গাড়ি বহরে হামলা চালানো গাড়িটি শনাক্ত হতো এবং হামলা এড়ানো যেতো।

রাহুল গান্ধী ভারতের সুনামহানি করছেন বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন দিগ্বিজয় সিং। কংগ্রেসের এই নেতা বলেছেন, রাজনাথ সিংকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বক্তৃতা শোনা উচিত। তিনি প্রকাশ্যে মানুষ হত্যার কথা বলে ঘৃণা ছড়াচ্ছেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *