দিনে ২ টাকারও কম খরচে ২ লক্ষের জীবন বিমা! কেন্দ্রের এই সরকারি প্রকল্পে আবেদনের শেষ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না

দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কম খরচে সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ তৈরি করতে কেন্দ্রীয় সরকার দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিমা প্রকল্প পরিচালনা করছে। এই প্রকল্প দুটি হলো— প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা (PMJJBY) এবং প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা (PMSBY)। এর মধ্যে একটি আপনাকে দেবে জীবন বিমার সুরক্ষা এবং অন্যটি দুর্ঘটনাজনিত বিমার আর্থিক কভারেজ।
উভয় প্রকল্পের ক্ষেত্রে বছরে মাত্র একবারই প্রিমিয়াম জমা দিতে হয়, যা প্রতি বছর ১ জুন থেকে পরবর্তী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রিমিয়ামের টাকা কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
দিনে ২ টাকারও কম খরচে PMJJBY-র সুরক্ষা: প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা হলো মূলত একটি টার্ম লাইফ ইনসিওরেন্স। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি যে কোনো ভারতীয় নাগরিক এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন। ৫০ বছর বয়সের আগে নাম নথিভুক্ত করলে ৫৫ বছর বয়স পর্যন্ত এই বিমার কভারেজ চালু রাখা যায়।
এর বার্ষিক প্রিমিয়াম মাত্র ৪৩৬ টাকা, যা হিসেব করলে দিনে ২ টাকারও কম দাঁড়ায়। বিমাকৃত ব্যক্তির যে কোনো কারণে মৃত্যু হলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি (Nominee) ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা পান। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে যোগ দেওয়ার পর ৩০ দিনের একটি ‘লিয়েন পিরিয়ড’ থাকে। এই সময়ে সাধারণ মৃত্যু হলে বিমার টাকা পাওয়া যায় না, তবে প্রথম দিন থেকেই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু এই কভারেজের আওতাভুক্ত থাকে। এছাড়া, এই প্রিমিয়াম আয়কর আইনের Section 80C-এর অধীনে করছাড়ের যোগ্য।
বছরে মাত্র ২০ টাকায় PMSBY-র দুর্ঘটনা বিমা: অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা সম্পূর্ণ একটি দুর্ঘটনাজনিত বিমা প্রকল্প। ১৮ থেকে ৭০ বছর বয়সি নাগরিকরা এই বিমার সুবিধা পেতে পারেন। এই প্রকল্পে বার্ষিক প্রিমিয়াম মাত্র ২০ টাকা।
দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা সম্পূর্ণ স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে নমিনি বা গ্রাহক ২ লক্ষ টাকা পান। এছাড়া আংশিক স্থায়ী অক্ষমতার জন্য ১ লক্ষ টাকার বিমা কভারেজ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে কোনো লিয়েন পিরিয়ড থাকে না। তবে এটি সাধারণ বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যদিও নির্দিষ্ট শর্তাধীনে বন্যা, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা খুনের মতো ঘটনা এই কভারের অন্তর্ভুক্ত।
একই ব্যক্তির একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকলে নিয়ম কী? উভয় প্রকল্পের ক্ষেত্রেই ‘সিঙ্গেল অ্যাকাউন্ট রুল’ (Single Account Rule) প্রযোজ্য। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তির একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকলেও তিনি কেবল একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই এই সুবিধা পাবেন। ভুলবশত একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রিমিয়াম কাটা হলেও মোট বিমা দাবির পরিমাণ ২ লক্ষ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং অতিরিক্ত কাটা প্রিমিয়াম ফেরত পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না।
কীভাবে আবেদন করবেন? যে কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত বা বেসরকারি ব্যাঙ্ক কিংবা পোস্ট অফিসে কনসেন্ট কাম ডিক্ল্যারেশন ফর্ম জমা দিয়ে খুব সহজেই এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা যায়। পাশাপাশি অধিকাংশ ব্যাঙ্কের নেট ব্যাঙ্কিং বা মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যাপ থেকেও সরাসরি আবেদন করা সম্ভব।
প্রতি বছর ৩১ মে-র মধ্যে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা রাখা জরুরি, কারণ ওই সময়েই অটো-ডেবিটের মাধ্যমে বিমা নবীকরণ করা হয়। সামান্য প্রিমিয়ামে পরিবারের বড় বিপদে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রের এই দুই প্রকল্প নিঃসন্দেহে একটি বড় ভরসা।