বেতনের থেকে জীবন বড়! মানসিক শান্তির খোঁজে চাকরি ছেড়ে বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ভারতের যুবপ্রজন্ম

দিনরাতের একটানা টানটান কাজের চাপ, টার্গেট পূরণের অবিরাম দৌড় আর কড়া সময়সীমার (Deadline) ভয়— সব মিলিয়ে বর্তমান যুগে কর্পোরেট দুনিয়ার তরুণ কর্মীদের জীবন হয়ে উঠছে চরম জেরবার। আইটি খাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত কাজ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে চাকরিজীবীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য। কর্মক্ষেত্রের এই দমবন্ধ করা বাতাবরণ নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে দেশজুড়ে।

সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে তরুণ প্রজন্মের এই করুণ অভিজ্ঞতার কথা। অতিরিক্ত কাজের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে শেষমেশ এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন বহু তরুণ পেশাদার। মানসিক স্বাস্থ্য (Mental Health) পুনরুদ্ধার ও নিজের শরীরকে একটু স্বস্তি দিতে বহু কর্মীই কাজ থেকে সাময়িক বিরতি বা ‘ক্যারিয়ার ব্রেক’ নিচ্ছেন। বেতন কমে যাওয়ার ঝুঁকি কিংবা ক্যারিয়ারের গতি কিছুটা ধীর হওয়ার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও নিজের শরীর ও মনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন আজকের যুবপ্রজন্ম।

কর্মীদের এই গণ-হতাশা ও শারীরিক ভাঙন চোখে পড়ার পর অবশেষে টনক নড়েছে একাধিক বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল ও বেসরকারি সংস্থারও। কাজের পরিবেশ উন্নত না করলে দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখা অসম্ভব, তা উপলব্ধি করতে পেরে বেশ কিছু কর্পোরেট হাউস এখন বিশেষ পদক্ষেপ করতে বাধ্য হচ্ছে।

সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে কাজের সময়সীমা পুনর্বিন্যাস করা, সাপ্তাহিক ছুটির সংখ্যা পর্যালোচনা করা এবং অফিসে মানসিক চাপ কমানোর জন্য ‘ওয়েলনেস প্রোগ্রাম’ ও কাউন্সেলিং সেশনের আয়োজন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কাজের সঠিক মূল্যায়ন ও সুষম জীবনযাত্রার মেলবন্ধন ঘটাতে না পারলে যে ভবিষ্যতে দেশের উৎপাদনশীলতাতেই বড়সড় ধস নামবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *