বিপজ্জনক গতিতে এগোচ্ছে ‘অর্ণব’! রাতের মধ্যেই ল্যান্ডফল, কোথায় কতটা তাণ্ডব চালাবে ঝড়? জানাল আবহাওয়া দফতর

বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে রূপ নিয়েছে প্রকাণ্ড গভীর নিম্নচাপে। এই সিস্টেমের প্রভাব ও ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছে একাধিক উপকূলবর্তী রাজ্য। হাওয়া অফিসের তাজা পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ, বুধবার রাতের মধ্যেই উপকূল অতিক্রম করে সজোরে আছড়ে পড়তে চলেছে এই শক্তিশালী ঝড়।

আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোরে পশ্চিম-মধ্য এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওপর থিতু ছিল এই গভীর নিম্নচাপটি। গত কয়েক ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ১২ কিলোমিটার গতিবেগে পশ্চিম দিকে ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে এটি। আপাতত অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনমের মাত্র ৭০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে এবং পুরী থেকে ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এর অবস্থান।

কোথায় এবং কখন হবে ল্যান্ডফল?

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, গভীর নিম্নচাপটি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে। কলিঙ্গপত্তনমের কাছাকাছি এলাকা দিয়েই এটি বুধবার রাতের মধ্যে ‘ডিপ ডিপ্রেশন’ বা গভীর নিম্নচাপ হিসেবে উপকূল অতিক্রম (Landfall) করবে। ল্যান্ডফালের সময় এই দুই রাজ্যের উপকূলে প্রবল বেগবান হাওয়ার পাশাপাশি তুমুল ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে কতটা দুর্যোগের মেঘ?

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ এবং এই গভীর নিম্নচাপের পরোক্ষ প্রভাবে পুজো ঘেন্formatting-এর মুখে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়াতেও বড়সড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের উপকূল ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে চলবে অতিভারী বর্ষণ।

বিশেষ করে দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়ায় অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত থেকে ভারী বৃষ্টির স্পেল চলতে পারে। উত্তাল সমুদ্রের কারণে মৎস্যজীবীদের ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *