১ বছরে দাম বাড়ল ৩৫ শতাংশ! দশ হাজারের নিচের ফোন কি তবে বাজার থেকে প্রায় উধাও হতে চলেছে?

সাধারণ মানুষের পকেট বাঁচাতে এবং মোবাইল বাজার চাঙ্গা করতে এবার জিএসটি (GST) হ্রাসের জোরালো দাবি উঠল। গত এক বছরে বাজারে স্মার্টফোনের দাম যেভাবে আকাশছোঁয়া হয়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসরে নেমেছে দেশের মোবাইল শিল্প সংগঠন ‘ইন্ডিয়া সেলুলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন’ (ICEA)। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মোবাইল ফোনের বর্তমান ১৮ শতাংশ জিএসটি কমিয়ে সরাসরি ৫ শতাংশ করার আর্জি জানানো হয়েছে। এই মর্মে ইতিমধ্যেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি পাঠিয়েছে ওই সংগঠন। আগামী জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

কেন হঠাৎ এই দাবি?

শিল্প সংগঠনের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে বিশেষ করে এন্ট্রি-লেভেল বা সস্তার স্মার্টফোনের দাম প্রায় ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মোবাইল তৈরির মূল উপকরণের খরচ বৃদ্ধিকে। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ডেটা সেন্টারের জন্য মেমোরি চিপের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজারে যন্ত্রাংশের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর জেরে গত কিছুদিনে মেমোরি বা স্টোরেজ উপাদানের দাম প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার অবমূল্যায়নও যন্ত্রাংশ আমদানির খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি কোপ সস্তার ফোনে

আইসিইএ-এর হিসাব বলছে, এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে ১০ হাজার টাকার নিচের বাজেটের স্মার্টফোন সেগমেন্টটি। বর্তমানে এই দামের ফোন মোট শিল্প সরবরাহের মাত্র ৫ শতাংশেরও কম। ফলে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যের ফোনগুলি। সংগঠনের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে যদি জিএসটি ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়, তবে ক্রেতাদের ওপর থেকে করের বোঝা অনেকটাই হালকা হবে এবং নির্মাতারা তুলনামূলক কম দামে ফোন বাজারে আনতে পারবেন।

ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বমানের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের জায়গা শক্ত করছে। তবে শিল্পমহলের মত, বৈদেশিক বাজারের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বা দেশীয় বাজার ধরে রাখাও অত্যন্ত জরুরি। এখন দেখার বিষয়, আসন্ন জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে এই প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব পায় এবং সরকার সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে কী পদক্ষেপ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *