জেলের অন্দরে কোটি টাকার তোলাবাজি চক্র! কারামন্ত্রী নন, বন্দিদের কাছ থেকে ঠিক কত টাকা তোলা আদায় করা হতো?

ফেলো কড়ি মাখো তেল—এই প্রবাদটিই এতদিন নিখুঁতভাবে সত্যি ছিল পশ্চিমবঙ্গের সংশোধনাগারগুলিতে। তৃণমূল জমানায় রাজ্যের জেলে বসে টাকা দিলেই মিলত হরেক রকমের ‘সর্বসুখ’। সম্প্রতি জেলখাটা এক আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার পরেই বালুরঘাট জেল সূত্রে ফাঁস হয়েছে এক চরম চাঞ্চল্যকর এবং বিস্ফোরক তথ্য। জেলের অন্দরে বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কেমন রমরমা তোলাবাজি চলত এবং কোন পরিষেবার জন্য কত টাকা দক্ষিণা দিতে হতো, তার এক অবিশ্বাস্য রেটচার্ট সামনে এসেছে।

খবর অনুযায়ী, শোয়া ও খাওয়ার জন্য ন্যূনতম ৭,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক সাবস্ক্রিপশন দিতে হতো বন্দিদের। টাকা না দিলে কপালে জুটত শুধু ভাত, নামমাত্র ডাল ও জল-লবণ-আলুর তরকারি, কিংবা কদাচিৎ পাতলা ঝোলে এক টুকরো আলু। তবে সাবস্ক্রিপশন থাকলে মিলত মদ, গাঁজা, মাছ-মাংস ও সুস্বাদু খাবার। এমনকি শোয়ার ক্ষেত্রেও ছিল বিশেষ তফাত—টাকা দিলে পা হাত ছড়িয়ে ভালোভাবে ঘুমানোর মতো স্বাচ্ছন্দ্যময় জায়গা মিলত।

শুধু খাওয়া-দাওয়া বা শোয়া নয়, মাদক ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ছিল নির্দিষ্ট রেট। ডোজ অনুযায়ী গাঁজার জন্য মাসিক ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা এবং বাজারমূল্যের দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে মদ মিলত, যার জন্য মাসিক ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার আলাদা সাবস্ক্রিপশন থাকতে হতো। পাশাপাশি, সাধারণ মোবাইল ব্যবহারের জন্য মাসে ৩,০০০ টাকা এবং স্মার্টফোনের জন্য ১০,০০০ টাকা দিতে হতো। এমনকি ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত বন্দির মাধ্যমে ফোন পে বা গুগল পে-র সাহায্যে আসামির বাড়ি থেকে টাকা তুলিয়ে ওয়ার্ড পিছু ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কালেকশন টার্গেট রাখা হতো। সবমিলিয়ে এই চক্রের মাধ্যমে প্রতিমাসে সিস্টেমেটিকভাবে ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা তোলাবাজি চলত বলে বিস্ফোরক অভিযোগে উঠে এসেছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় ইতিমধ্যেই দু’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *