‘জয় হিন্দ’ না বলে কেন বলা হলো ‘ইনশাআল্লাহ’? হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের অভিযোগের পরেই বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের!

সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওতে ইসলামি অভিবাদন ও ধর্মীয় শব্দ ব্যবহারের জেরে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বদলি হতে হলো পশ্চিমবঙ্গের এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে। ২০২১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার তথা খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানোকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডান্ট পদে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই রদবদলকে ‘জনস্বার্থে’ রুটিন বদলি হিসেবে দাবি করা হলেও, এর নেপথ্যের সময় ও কারণ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
কয়েকদিন আগে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন বুশরা বানো। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচিং একাডেমির প্রশংসা করার পাশাপাশি সেই ভিডিওর শুরু ও শেষের অংশে তাকে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ এবং ‘জাযাকাল্লাহ’-র মতো শব্দ ব্যবহার করতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরেই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি তীব্র আপত্তি তোলে। ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামের একটি সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে দাবি করে, সরকারি চাকরিরত কোনো কর্মকর্তার জনসমক্ষে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত এবং এই ধরনের শব্দ ব্যবহার না করে জাতীয় ভাবনার প্রতিফলন ঘটানো উচিত।
এর ঠিক একদিন পরেই গত ১৪ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে তাঁর বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। এই দ্রুত পদক্ষেপের পরেই বিরোধীরা সোচ্চার হয়েছেন। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এবং এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিশ পাঠানের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন মুসলিম নারী বলেই কি তাঁকে এমন কোণঠাসা করা হলো? অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। যদিও সরকারি মহলের দাবি, এই বদলির সঙ্গে সাম্প্রতিক বিতর্কের কোনো যোগসূত্র নেই এবং এটি একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।