এক দলে দুই প্রার্থী! নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে জোড়াফুলের ঘরোয়া দ্বন্দ্বে কি বেকায়দায় শাসক শিবির?

আসন্ন উপনির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার শাসকদলের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার সরাসরি এসে পৌঁছল নির্বাচন কমিশনের দরবারে। জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের তহবিলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ ও ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের লড়াই এখন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকেই সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

গত শনিবার নির্বাচন কমিশন ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ ও ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করে। ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর জমা দেওয়া নথিপত্রের ভিত্তিতে এবার কালীঘাট শিবিরের কাছেও সুনির্দিষ্ট তথ্য তলব করেছে কমিশন। এই বিবাদের মাঝেই পূর্ব মেদিনীপুরের হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যার জেরে জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

তবে এবারের উপনির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ও চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের শাসকদলের ভেতরের আড়াআড়ি বিভাজন। নন্দীগ্রাম আসনে মনোনয়নের শেষ দিনে একই দলের ব্যানারে দুই আলাদা পক্ষ থেকে প্রার্থী জমা দেওয়া হয়েছে। একদিকে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং অন্যদিকে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে মনোনয়ন পেশ করেছে। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রেজিনগর কেন্দ্রটিতেও, যেখানে ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। শাসক শিবিরের এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে যেমন নির্বাচনী সমীকরণ বদলে গেছে, তেমনই অন্যদিকে বিজেপিও তাদের প্রার্থী জমা দিয়ে লড়াইকে ত্রিমুখী ও আরও তীব্র করে তুলেছে। সব মিলিয়ে, প্রতীক ও তহবিলের লড়াই এবং একই দলে জোড়া প্রার্থীর এই দড়িটানাটানি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *