জল আর কেরোসিনেই চলবে রান্নার উনুন! ১৬ বছরের ছাত্রের তাক লাগানো আবিষ্কার দেখে চোখ কপালে উঠল বিজ্ঞানীদের

রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাস বা মাটির তেলের ব্যবহার তো হামেশাই দেখা যায়। কিন্তু জল এবং কেরোসিনের মিশ্রণে চলা এক অভিনব হাইব্রিড উনুন তৈরি করে গোটা দেশকে চমকে দিয়েছে মধ্যপ্রদেশের একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ব্যাসজি মিশ্র। মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিজের সীমিত সামর্থ্য আর অভাবের সঙ্গে লড়াই করে এই অসাধ্য সাধন করেছে সে। জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে তৈরি এই বিশেষ উনুনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, সাধারণ উনুনের তুলনায় এটি থেকে ধোঁয়া অনেক কম উৎপন্ন হয়।

কীভাবে এল এই হাইব্রিড উনুন তৈরির ভাবনা?

রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্যাসজি তাঁর দাদা পবনজি মিশ্রের অসম্পূর্ণ স্বপ্নকে রূপ দিতেই এই হাইব্রিড উনুন তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। দুই ভাই মিলে প্রায় ৬ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই ডিভাইসটি তৈরি করেন। এর জন্য তাঁরা দুটি সাধারণ কেরোসিন স্টোভ এবং তিনটি রেগুলেটর একসঙ্গে যুক্ত করেন।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, এই পুরো প্রোটোটাইপটি তৈরি করতে তাঁদের মোট খরচ হয়েছিল মাত্র ৬০০ টাকা! ব্যাসজির বাবা একটি তহশিল অফিসে ক্লার্কের চাকরি করতেন এবং তাঁদের পরিবারের বার্ষিক আয় ছিল ৬০ হাজার টাকারও কম। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেও তাঁর দাদা ও পরিবারের অন্যান্যদের সহযোগিতায় এই বৈপ্লবিক আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে, যা পরবর্তীতে আইআইটি গুয়াহাটি (IIT Guwahati)-র মতো সংস্থার নজর কাড়ে এবং প্রশংসিত হয়।

কীভাবে কাজ করে এই জল-কেরোসিন উনুন?

এই অভিনব স্টোভটি মূলত দুটি আলাদা ট্যাঙ্ক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। একটি ট্যাঙ্কে থাকে কেরোসিন এবং অন্যটিতে জল। দুই ট্যাঙ্কেই বাতাসের চাপ তৈরি করার জন্য বিশেষ পাম্প লাগানো থাকে এবং পাইপের মাধ্যমে সেগুলি একই বার্নারের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

  • প্রথমে কেরোসিনের সাহায্যে বার্নারটি ভালো করে গরম করা হয়, যতক্ষণ না সেটি লাল বর্ণ ধারণ করে।

  • বার্নার পর্যাপ্ত গরম হয়ে গেলে কেরোসিনের রেগুলেটর বন্ধ করে জলের রেগুলেটর খুলে দেওয়া হয়।

  • এরপর ওই উত্তপ্ত বার্নারের সংস্পর্শে এসে জল নিমেষেই বাষ্পে পরিণত হয় এবং তার প্রবল শক্তিতে উনুনের আঁচ অত্যন্ত তীব্র থাকে।

  • রান্নার সময় আঁচ কমতে শুরু করলে জল সরবরাহ সাময়িক বন্ধ করে ফের কেরোসিন চালু করা হয়, যাতে বার্নারটি আবার আগের মতো গরম হয়ে যেতে পারে।

আইআইটি গুয়াহাটির বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, এই প্রযুক্তির সফল ব্যবহারে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কেরোসিন সাশ্রয় করা সম্ভব। আর্থিক প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক সাধারণ কিশোরের এই অভাবনীয় আবিষ্কার এখন গোটা দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *