কালীঘাটের বাড়িতে সরাসরি সিআইডির হানা! জাল দলিল ও রাবার স্ট্যাম্পের খোঁজে কে এই হাইপ্রোফাইল ব্যক্তি?

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি দখল এবং তার মালিকানা বদল করতে জাল নথি তৈরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তদন্তে বড় অগ্রগতি ঘটাল সিআইডি। মঙ্গলবার ধৃত সুমিত রায়কে সঙ্গে নিয়ে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। গোয়েন্দাদের অনুমান, এই জমি দুর্নীতি মামলা সম্পর্কিত বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং পুরোনো ফোন ওই বাড়িতে লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে।
জাল দলিল ও নকল রাবার স্ট্যাম্পের রহস্য
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, শালবনির বিশাল পরিমাণ সরকারি জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো পরিকল্পনা করে জাল নথি তৈরি করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই কাজে কেবল ভুয়া দলিলই নয়, ব্যবহার করা হয়েছিল নিখুঁত নকল রাবার স্ট্যাম্পও। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ বেআইনি প্রক্রিয়াকে আইনি রূপ দেওয়ার জন্য একটি জালিয়াতির চক্র সক্রিয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রীদের চিহ্নিত করতে তৎপর হয়েছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।
গ্রেফতার সুজয় হাজরার ঘনিষ্ঠরা
এই হাইপ্রোফাইল দুর্নীতি মামলায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার পাশাপাশি তাঁর তিন ঘনিষ্ঠ ‘লিংকম্যান’ অমিত ঘোষ, নিত্যানন্দ রায় এবং লক্ষীকান্ত ভূঁইয়াকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মেদিনীপুর জেলা আদালত ধৃতদের চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, সিআইডি হেফাজতে থাকা সুমিত রায়কে ভবানী ভবনে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। শালবনি জমি কেলেঙ্কারিতে আর্থিক লেনদেন এবং জালিয়াতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা বের করতেই এখন কালঘাম ছুটছে তদন্তকারীদের।