কক্ষপথে মহাশক্তিধর অস্ত্র মোতায়েন আমেরিকার! ত্রিদেশীয় স্নায়ুযুদ্ধে কাঁপছে বিশ্ব

মহাকাশে ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রতিযোগিতার মধ্যেই এক যুগান্তকারী ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রথমবার মার্কিন প্রশাসন প্রকাশ্যে স্বীকার করল যে, তারা পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েন করেছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর সচিব ট্রয় ম্যাক জানিয়েছেন, সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণ থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে এই ‘কক্ষপথ-ভিত্তিক মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র’ অত্যন্ত জরুরি ছিল। তবে এই অস্ত্রগুলোর সঠিক প্রকৃতি, সংখ্যা বা ঠিক কবে এগুলি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।

রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান মহাকাশ সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ওয়াশিংটনের দাবি, বেইজিং ও মস্কো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাদের মহাকাশ সামরিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে। নিজেদের বাহিনীকে আধুনিক করতে চীন এমন সব প্রযুক্তি তৈরি করছে যা প্রতিপক্ষ দেশের স্যাটেলাইট ও মহাকাশ ব্যবস্থাকে অকেজো করে দিতে পারে। অন্যদিকে রাশিয়াও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে পারে মহাকাশ অস্ত্র

মার্কিন নীতি নির্ধারকদের মতে, মহাকাশ প্রযুক্তির এই অগ্রগতি আগামী দিনের যেকোনো সংঘাতে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। ২০০৭ সাল থেকেই রাশিয়া ও চীনের মহাকাশ অস্ত্রের পরীক্ষা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল আমেরিকা। তাদের বক্তব্য, শত্রুর হামলা প্রতিহত করতে এবং মহাকাশে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এই সামরিক প্রস্তুতি আবশ্যিক ছিল। বর্তমান যুগে সামরিক জিপিএস, যোগাযোগ, নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে লক্ষ্য নির্ধারণ—সবকিছুই স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কোনো দেশের স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি এবং সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর।

কী ধরনের অস্ত্র থাকতে পারে কক্ষপথে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কক্ষপথে মোতায়েন করা অস্ত্রের আসল রূপ সম্পর্কে মুখ না খুললেও সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই প্রযুক্তির মধ্যে সাইবার সিস্টেম, শক্তিশালী লেজার কিংবা অন্য দেশের স্যাটেলাইটকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম বিশেষ স্যাটেলাইট থাকতে পারে। ২০১৯ সালে গঠিত মার্কিন স্পেস ফোর্সের প্রধান কাজই হলো কক্ষপথে থাকা শত শত মার্কিন স্যাটেলাইট ও সামরিক সম্পদ রক্ষা করা। তবে মহাকাশে এই ধরনের অস্ত্র মোতায়েন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেকোনো উপগ্রহ ধ্বংস হলে তার অবশিষ্টাংশ বা ‘স্পেস ডেব্রিস’ দ্রুত গতিতে কক্ষপথে ছড়িয়ে পড়ে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের উপগ্রহ এবং মহাকাশ অভিযানের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *