কোনো চেকিং ছাড়াই সরাসরি মিউনিখ ফ্লাইট! এয়ার ইন্ডিয়ার চরম ভুলেই কি দেশজুড়ে বড় নিরাপত্তার ফাঁক?

দেশের বিমানবন্দরগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক বিরাট ও নজিরবিহীন ফাঁকফোকরের ঘটনা সামনে এসেছে। কোনো রকম অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) বা পাসপোর্টের যাচাই ছাড়াই তিনজন ইতালীয় নাগরিক দিল্লি বিমানবন্দর থেকে সোজা মিউনিখের প্লেনে চড়ে বসেছেন। এয়ার ইন্ডিয়ার ‘হাব-অ্যান্ড-স্পোক’ সিস্টেমের চরম গাফিলতি এবং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করার এই গুরুতর ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আসরে নেমেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
পুরো ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল?
তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনজন ইতালীয় নাগরিক অমৃতসর থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে (এআই-১১১৫) রাত সাড়ে বারোটার দিকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। নিয়ম অনুযায়ী, অমৃতসরের মতো হাব-অ্যান্ড-স্পোক এয়ারপোর্ট থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাওয়ার আগে যাত্রীদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু ওই তিন বিদেশি যাত্রী কোনো ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্ট পার না করেই সোজা প্রস্থান এলাকায় চলে যান এবং সেখান থেকে লুফথানসার একটি ফ্লাইটে মিউনিখের উদ্দেশে উড়ে যান।
এয়ার ইন্ডিয়ার কোথায় বড় ভুল ছিল?
তদন্তে জানা গেছে, এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে ওই তিন যাত্রীকে কেবল ‘ডি’ বা ডোমেস্টিক (অভ্যন্তরীণ) ক্যাটাগরির বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়েছিল। অথচ দিল্লিতে পৌঁছানোর পর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আলাদা করার যে কঠোর নিয়ম রয়েছে, তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, হাব-অ্যান্ড-স্পোক বিমানবন্দরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা একজন নোডাল অফিসার এবং একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণকারী দল থাকার কথা, যাতে কোনো যাত্রী যাচাই ছাড়াই আন্তর্জাতিক প্রস্থান এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে। কিন্তু এয়ার ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে এই মনিটরিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক তলব
এই গুরুতর ত্রুটির জেরে গত ১২ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক (MoCA) এয়ার ইন্ডিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছিল। এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় আজ সন্ধ্যায় একটি উচ্চ-পর্যায়ের জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহনের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশনের কমিশনার, এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও এবং বিমান মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকেরা উপস্থিত থাকবেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য কড়া পদক্ষেপ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।