বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষমতার মসনদে কি বসছেন কোনো নারী? জাতিসংঘ নির্বাচনের দৌড়ে নতুন মোড়

আগামী ২০২৬ সালে নতুন মহাসচিব পেতে চলেছে জাতিসংঘ। তবে এবারের এই নির্বাচন প্রক্রিয়া বিগত সমস্ত রেকর্ড ভেঙে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। দীর্ঘ ৮০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার জাতিসংঘের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে কোনো নারী প্রার্থীর আসীন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির এই ঐতিহাসিক বদলকে পদের চিরাচরিত পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো বা ‘গ্লাস সিলিং’ ভাঙার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কাদের হাতে রয়েছে নেতৃত্ব পরিবর্তনের চাবিকাঠি?

চলতি নির্বাচন পর্বে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও এই দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন উন্নয়নশীল ছোট দেশের দুই প্রবীণ কূটনীতিবিদ। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন গায়ানার জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বার্কেট এবং কোস্টারিকার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ রেবিকা গ্রিসপ্যান। বিশ্বমঞ্চে এই দুই নারী নেত্রীই বরাবর জোরালোভাবে বহুত্ববাদ এবং ছোট দেশগুলোর অধিকারের পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন।

বড় অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোর বাইরে গিয়ে উন্নয়নশীল বা ছোট দেশগুলোর প্রতিনিধিরা যেভাবে জাতিসংঘের মূল ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজেদের দাবি জোরালো করছেন, তা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

কেন এই নির্বাচন এত গুরুত্বপূর্ণ?

গত আট দশকে জাতিসংঘ বহু আন্তর্জাতিক সংকটের সাক্ষী থেকেছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অশান্তি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং জলবায়ু সংকটের মতো জটিল চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের এই নারী মুখগুলো যেভাবে কূটনৈতিক মহলে সমর্থন আদায় করছেন, তাতে এবারের মহাসচিব নির্বাচন বিশ্ব সংস্থার ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের নজর এখন চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *