ভুয়া নথিতেই কি ডাক্তার হচ্ছেন অযোগ্যরা? রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে তোলপাড়, পুলিশে দায়ের অভিযোগ

ভুয়ো এবং জাল নথির ভিত্তিতে একের পর এক চিকিৎসকের মিলছে রেজিস্ট্রেশন? চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ‘পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল’ (WBMC)-কে ঘিরে উঠল এক বিস্ফোরক অভিযোগ। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে একাধিক অযোগ্য ব্যক্তি জাল নথিপত্র জমা দিয়ে ডাক্তারি করার লাইসেন্স হাসিল করেছেন— এমন চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হলেন চিকিৎসক সুনন্দ দে। ঘটনাটির ওপর গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে জমা পড়া ওই লিখিত অভিযোগে উঠে এসেছে একাধিক প্রবীণ ও শাসকদলের প্রভাবশালী চিকিৎসকদের নাম। অভিযোগের তির ডা. মানস চক্রবর্তী, ডা. নির্মল মাজি, ডা. সুদীপ্ত রায় এবং ডা. সুশান্ত রায়ের দিকে। পুরো ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার জন্য আর্জি জানানো হয়েছে।

রোগীদের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা? অভিযোগপত্রে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, কোনো স্বাধীন তদন্ত বা সঠিক যাচাই না করেই অত্যন্ত আশঙ্কাজনকভাবে কিছু ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সত্যি প্রমাণিত হলে, এটি যে কেবল একটি প্রশাসনিক গাফিলতি থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য। কারণ, অযোগ্য ও ভুয়ো ব্যক্তিরা যদি বেআইনিভাবে লাইসেন্স পেয়ে চিকিৎসা চালাতে শুরু করেন, তবে হাজার হাজার রোগীর জীবন সরাসরি বিপদের মুখে পড়বে।

কী কী বিষয়ে তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে? অভিযোগকারী সুনন্দ দে বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন:

  • আসল যাচাই: শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্রগুলি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল, তা কি সততার সঙ্গে স্বাধীনভাবে যাচাই করেছিল কাউন্সিল?

  • বেআইনি লেনদেন: কোনো নেতিবাচক রিপোর্ট আসা সত্ত্বেও কি ক্ষমতার জোরে তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল? বেআইনি আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কোনো সুসংগঠিত চক্র এই কাজ চালাচ্ছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনার আর্জি রয়েছে।

  • নথি লোপাটের আশঙ্কা: মঙ্গলবার সকালে কাউন্সিলের দফতরে ডা. সুদীপ্ত রায় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে কিছু নথি চেয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন বলে দাবি। তাই অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ, নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মচারীদের বয়ান খতিয়ে দেখে কাউন্সিলের সমস্ত নথি ও তথ্য সুরক্ষিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এত বড় মাপের অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বর্তমানে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়ে। পুলিশ সূত্রে খবর, লিখিত আবেদন জমা পড়লেও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো এফআইআর বা আইনানুগ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *