“মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই টার্গেট!” হাইকোর্টে সিপিআইএম নেতার বিস্ফোরক সওয়াল, পাল্টা নির্দেশে বড় ধাক্কা?

বারুইপুরের চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও আইনি লড়াইয়ে এক নতুন মোড়। সিপিআইএম নেতা লাহেক আলির দায়ের করা মামলা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম বাদ দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে একেবারেই মেনে নিতে পারেননি লাহেক আলির আইনজীবীরা। হাইকোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বা চ্যালেঞ্জ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ জুলাই, যখন বারুইপুরে এক বালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপরই ১২ জুলাই বিজেপি মণ্ডল সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী লাহেক আলির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন এবং সেদিনই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। লাহেকের আইনজীবীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ্য সরকারের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার প্রশ্ন তোলেন, এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীকে কেন পক্ষভুক্ত (পার্টি) করা হলো? তিনি অবিলম্বে মামলা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানান। সেই যুক্তিতে সায় দিয়েই বিচারপতি ভট্টাচার্য শুভেন্দু অধিকারীর নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে লাহেক আলির দায়ের করা এফআইআর খারিজের আবেদনে আপাতত সাড়া দেয়নি আদালত। যেহেতু তিনি ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী জামিনে রয়েছেন, তাই পুজোর ছুটির পর সব পক্ষের হলফনামা পেশের মাধ্যমে পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বিচারপতির এই নির্দেশের তীব্র বিরোধিতা করেন লাহেকের প্রধান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “এই মামলায় শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এবং তার পর নেওয়া পদক্ষেপ পুরো তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।” ফলে মামলা থেকে শুভেন্দুর নাম বাদ পড়ার নির্দেশ বাতিল করতে তাঁরা দ্রুত উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করতে চলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *