‘আমাকে সবাই চেনে…’ রাস্তার ধারের শেডের নিচ থেকে উদ্ধার সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ, ম্বামী-ছেলের নিষ্ঠুরতা ফাঁস

সম্পত্তির বিবাদের জেরে অমানবিকতার এক নজিরবিহীন ছবি সামনে এল দক্ষিণ দমদম পুরসভার নাগেরবাজার এলাকায়। রাস্তার পাশের একটি দোকানের শেডের নিচ থেকে এক অসুস্থ ও অসহায় বৃদ্ধকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্পত্তি হাতানোর লোভে ওই সত্তরোর্ধ বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের ছেলে। বর্তমানে ওই বৃদ্ধ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল নাগেরবাজারে?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার রাত নটা নাগাদ নাগেরবাজার থানার এক পুলিশকর্মী রুটিন টহলে বেরোনোর সময় নাগেরবাজার এলাকার একটি দোকানের শেডের নিচে এক বৃদ্ধকে শুয়ে থাকতে দেখেন। তাঁর পরনে ছিল নোংরা হাফপ্যান্ট ও টি-শার্ট এবং দীর্ঘদিন স্নান না করার কারণে অবস্থা বেশ শোচনীয় ছিল। পুলিশ কাছে গিয়ে তাঁর নাম জানতে চাইলে তিনি ভাঙা গলায় জানান যে তাঁর নাম জগন্নাথ জানা। এর পরেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বৃদ্ধের অভিযোগ, তাঁর নিজের ছেলে তাঁকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে গিয়েছে।

কী জানা যাচ্ছে বৃদ্ধের পরিবার সম্পর্কে?

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, জগন্নাথ জানার আদি বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল থানার বামনবার এলাকায়। বর্তমানে তিনি দমদমের অজয়নগরের কালীমন্দিরের কাছে তাঁর ছেলে দেবাশিস জানার সঙ্গেই থাকতেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃদ্ধের প্রথম পক্ষের সন্তান মারা যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর ওপর অত্যাচার শুরু হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে ওই বৃদ্ধকে খোলা আকাশের নিচে ওইভাবে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। কেউ খাবার দিলে খেতেন, নতুবা না খেয়েই দিন কাটত তাঁর।

রাতেই পুলিশ তড়িঘড়ি ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করায়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁর বিবৃতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে এবং অভিযুক্ত ছেলের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *