কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে কোটি টাকার দোকান! প্রলয়ঙ্কারী হড়পা বান পেরিয়ে কীভাবে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইতে নেপালের মানুষ?

প্রলয়ঙ্কারী হড়পা বানের সর্বগ্রাসী গ্রাসে নিমেষে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপালের নুয়াকোট জেলার বিদুর পুরসভার ধুঙ্গে বাজার এলাকা। গত ২৬ অগস্ট ত্রিশূলি নদীর বিধ্বংসী বন্যায় পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা আস্ত একটি জনপদ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কোটি টাকার দোকানপাট, সাজানো সংসার আর ব্যবসা মুহূর্তের মধ্যে কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে গেলেও, যাঁরা প্রাণে বেঁচেছেন তাঁরা আজ হার না মানা মানসিকতা নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
ধ্বংসের মাঝেও বেঁচে থাকার আকুতি
বানের তোড়ে তিনতলা বাড়ি ও পাইকারি দোকান হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন রোজিতা পাণ্ডে এবং আশিস রিজালের মতো স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। চার-পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি ও পরিজন হারানোর চরম শোক বুকে নিয়েও তাঁরা আজ কাদামাটির গভীর থেকে নিজেদের বেঁচে থাকার সম্বলটুকু কুড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, পচা গন্ধ আর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়েও মাথা উঁচু করে বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এখানকার মানুষ।
ঘুরে দাঁড়ানোর চাবিকাঠি ও সরকারি সাহায্য
-
ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা: বিপর্যয়গ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে যোগী গুরু স্বামী রামদেবের পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ সহ বিভিন্ন সংস্থা ত্রাণশিবির খুলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে খাবার সরবরাহ করছে।
-
যোগাযোগ ও লাইফলাইন: হড়পা বানে সেতু ভেসে যাওয়ায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী স্টিলের কেবলের ‘টুয়েন’ (নদী পারাপারের ব্যবস্থা), যা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নদী পার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
-
পুনর্গঠনের উদ্যোগ: ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, হাজার হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই অঞ্চলে পুনর্বাসন ও মাসিক আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নেপাল সরকার।
সব হারিয়েও ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন করে মাথা তুলে দাঁড়ানোর এই অদম্য জেদ আজ গোটা নেপালবাসীর ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।