৮০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! জাতিসংঘের মসনদে বসতে চলেছেন কোনো নারী? রেসে এগিয়ে কে?

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস বা জাতিসংঘ (UN) বর্তমানে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। সংস্থার বর্তমান প্রধান অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর এই নির্বাচনকে ঘিরেই গোটা বিশ্বে শুরু হয়েছে চরম জল্পনা। জাতিসংঘের দীর্ঘ ৮০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো নারী এই শীর্ষ পদে আসীন হতে পারেন বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
লড়াইয়ে এগিয়ে কারা?
চলমান এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম উঠে এসেছে। তবে বর্তমান স্ট্রॉ পোল বা অভ্যন্তরীণ ভোটিংয়ের হিসাব অনুযায়ী রেসের একেবারে সামনের সারিতে রয়েছেন দুজন নারী প্রতিদ্বন্দী:
-
ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেটের (Carolyn Rodrigues-Birkett): জাতিসংঘের গায়ানার স্থায়ী প্রতিনিধি এবং দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ছোট দেশগুলোর অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে তিনি বর্তমানে সবার নজর কেড়েছেন।
-
রেবেকা গ্রিনস্প্যান (Rebecca Grynspan): ইউএনসিটিএডি (UNCTAD)-এর সেক্রেটারি-জেনারেল এবং কোস্টা রিকার সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর সঠিক ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করে তিনি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দী হিসেবে উঠে এসেছেন।
বর্তমান সংকট ও নতুন মহাসচিবের চ্যালেঞ্জ
বিশ্ব রাজনীতিতে যখন একদিকে ইউক্রেন, গাজা ও সুদানের মতো একাধিক সংঘাত চলছে এবং আমেরিকার মতো মহাশক্তিধর দেশগুলো আর্থিক অনুদান কমিয়ে দিচ্ছে, ঠিক তখনই নতুন মহাসচিবের কাঁধে এক বিশাল দায়িত্ব এসে পড়তে চলেছে। জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ এবং ১৯৩ দেশের সাধারণ পরিষদের ভোটের মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়। যেখানে নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্য দেশের (আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চিন) ভেটো ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আগামী মাসগুলিতে পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন তা নিয়ে লবিং আরও তীব্র হবে। তবে শেষ পর্যন্ত যদি কোনো নারী এই পদে আসীন হন, তবে তা বিশ্ব কূটনীতির ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।