NEET কাণ্ডের পর এবার প্রকম্পিত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়! ABVP না NSUI—কার হাতে যাচ্ছে DUSU?

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (DUSU) নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে সরগরম উত্তর ও দক্ষিণ ক্যাম্পাস। আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই হাইভোল্টেজ নির্বাচন, আর পরদিনই অর্থাৎ ১৯শে সেপ্টেম্বর জানা যাবে কার মাথায় উঠছে ছাত্র সংসদের মুকুট। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে শেষ মুহূর্তের প্রচারে কোনো খামতি রাখছে না প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র সংগঠন—অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) এবং ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (NSUI)। ইতিমধ্যেই দুই শিবিরই প্রকাশ করেছে তাদের ইশতেহার।

চলতি বছরের DUSU নির্বাচন অন্য সব বছরের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। সম্প্রতি NEET UG প্রশ্নপত্র ফাঁস কেন্দ্রিক যন্তর মন্তরে হওয়া দেশব্যাপী আন্দোলন এবং সত্য নিকেতনের মর্মান্তিক পিজি দুর্ঘটনার পর এই নির্বাচন আয়োজিত হচ্ছে। যে শিক্ষার্থীরা NEET আন্দোলনের মুখ ছিলেন, তাদের একাংশ এখন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রথম বর্ষের ছাত্র। ফলে এই নির্বাচন জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

ABVP-র ইশতেহার: ফোকাসে আবাসন ও নারী সুরক্ষা

রবিবার প্রকাশিত ABVP-র ইশতেহারের মূল ভিত্তি “A-B-V-P”—যার অর্থ ‘A’ তে আবাসন, ‘B’ তে অংশগ্রহণ (भागीदारी), ‘V’ তে বিশ্বাস এবং ‘P’ তে পরিনাম (ফলাফল)। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট ও ক্যাম্পাস সুরক্ষাকেই পাখির চোখ করেছে তারা।

তাদের প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে অন্যতম:

  • নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ এবং ছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত হোস্টেল সুবিধা।

  • পিজি ও হোস্টেলগুলোর জন্য বিশেষ আবাসন সেল, হেল্পলাইন ও অগ্নি-সুরক্ষা যাচাই।

  • ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তার জন্য ‘পিঙ্ক বুথ’, বিশেষ টহল ব্যবস্থা এবং মহিলা নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ।

  • স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন, উন্নত কমন রুম ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ পরামর্শের সুবিধা।

NSUI-র ইশতেহার: মেট্রো পাস থেকে মাসিক ছুটির দাবি

সোমবার জাতীয় সভাপতি বিনোদ জাখরের উপস্থিতিতে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে NSUI। “জবাবদিহিমূলক DU | জবাবদিহিমূলক DUSU” শীর্ষক এই ইশতেহারে শিক্ষার্থীরা যেসব দৈনিক সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলোকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

তাদের মূল প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে:

  • শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ‘মেট্রো কনসেশন পাস’ চালু করা।

  • সাশ্রয়ী পিজি ও ভাড়ার আবাসনের জন্য বিশেষ ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন এবং একটি নির্দিষ্ট DU পোর্টাল তৈরি।

  • সপ্তাহে ৫ দিনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম (সোমবার থেকে শুক্রবার)।

  • ছাত্রীদের জন্য প্রতি মাসে ২ দিনের মাসিক (Menstrual) ছুটির ব্যবস্থা।

  • জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ও চার বছরের স্নাতক প্রোগ্রামে (FYUP) স্বচ্ছতা আনা।

হোস্টেল সংকট ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবি উভয় দলের ইশতেহারেই প্রাধান্য পেলেও, NEET সংক্রান্ত আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ইভিএমে কতটা প্রভাব ফেলে—এখন সেটাই দেখার। ১৮ই সেপ্টেম্বরের ভোটের ওপরই নির্ভর করছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী দিনের ছাত্র রাজনীতির ভাগ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *