৬ মাসের মধ্যেই কি ইন্টারনেট কব্জা করবে চিনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা? আমেরিকার আর্জি উড়িয়ে খোদ ট্রাম্প যা বললেন!

চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ওপর অবিলম্বে লাগাম টানা দরকার—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই আর্জি জানিয়ে সম্প্রতি শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন মার্কিন এআই সংস্থা ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর শীর্ষকর্তা। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে এআই-এর অবাধ ব্যবহারে খানিক রাশ টানার পক্ষেও সওয়াল করেছিলেন তিনি। সোমবার এই মন্তব্যেরই চরম কড়া ভাষায় জবাব দিল চীন।
মার্কিন সংস্থার তীব্র আশঙ্কা ও হুঁশিয়ারি
‘অ্যানথ্রোপিক’-এর প্রধান দারিও আমোদের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে চীন যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তা আগামী দিনে গোটা বিশ্বের জন্য চরম বিপদ ডেকে আনতে পারে। এমনকি, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে না আনলে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘এজেন্ট’রা গোটা ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিতে পারে বলেও চাঞ্চল্যকর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
চীনের কড়া পালটা জবাব ও ট্রাম্পের অবস্থান
সোমবার আমেরিকার এই আশঙ্কার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেজিংয়ের স্পষ্ট বার্তা, এআই প্রযুক্তি নিয়ে ভয় দেখানো কিংবা নতুন করে বৈরিতা বা সংঘাত তৈরি করা কারও পক্ষেই মঙ্গলজনক নয়; বরং বিশ্ববাসীর একযোগে কাজ করা উচিত। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র একে সরাসরি এক ধরনের ‘ঠাণ্ডা যুদ্ধ’ (Cold War) শুরুর চক্রান্ত বলে তোপ দেগেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এআই-এর গতি কমানোর এই প্রস্তাবকে পাত্তাই দিতে নারাজ। তাঁর সাফ কথা, এআই প্রযুক্তির বাজারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই সর্বেসর্বা এবং এই প্রতিযোগিতায় যে দেশ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে, জয়ী হবে সেই।
নজর এখন শি-ট্রাম্প মেগা বৈঠকে
প্রযুক্তিগত আধিপত্য বিস্তারের এই তীব্র টানাপোড়েনের মাঝেই আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এক মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির এই অস্ত্র লড়াইয়ের আবহে সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই বিশ্বনেতার মধ্যে কী আলোচনা হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা আন্তর্জাতিক মহল।