পরীক্ষার মুখে বিরাট অনিশ্চয়তা! উত্তাল সুরেন্দ্রনাথে ক্লাসে এলেন না উপাধ্যক্ষ, পঞ্চম দিনেও চরম জটিলতা!

চল্লিশ শতাংশ উপস্থিতি না-থাকলে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না—কলেজ কর্তৃপক্ষের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চলা অচলাবস্থা কাটল না সোমবারও। সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজে পড়ুয়াদের লাগাতার আন্দোলনের জেরে তৈরি হওয়া জটিলতা আজ পঞ্চম দিনে পা দিল। এদিন কলেজে উপস্থিত হননি উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুম, বরং বাড়ি থেকেই দাপ্তরিক কাজ সামলেছেন তিনি। অন্যদিকে, ছাত্রছাত্রীরা কলেজে উপস্থিত থাকলেও বিক্ষিপ্ত পরিস্থিতি ও শিক্ষক-উপস্থিতির অভাবে কোনও ক্লাস হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার ঠিক দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন।
পদত্যাগ বিতর্ক ও ছাত্র-বিক্ষোভ
গত বুধবার থেকেই উপস্থিতি যাচাইয়ের সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পড়ুয়াদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। আন্দোলন রূপ নেয় চরম বিক্ষোভে। গত বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সময় ধরে উপাধ্যক্ষকে ঘেরাও করে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে শুক্রবার দুপুরে পদত্যাগপত্রে সই করার পর তাঁকে ঘেরাওমুক্ত করা হয়।
কিন্তু এখানেই বিতর্কের শেষ হয়নি। উপাধ্যক্ষ পরবর্তী সময়ে অভিযোগ করেন যে, শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়ে তাঁকে জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এমনকি তাঁর ‘লাশ বের হতো’ বলেও বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। যদিও উপাধ্যক্ষের এই সমস্ত অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। তাঁদের সাফ প্রশ্ন, অনলাইন পোর্টালে ক্লাসের সঠিক হিসাব বা স্বচ্ছতা না থাকলে কীসের ভিত্তিতে ৪০ শতাংশ উপস্থিতির মাপকাঠি নির্ধারণ করা হলো?
মঙ্গলবারের বৈঠকের দিকে নজর
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং জট কাটাতে মঙ্গলবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকের আবেদন করেছেন উপাধ্যক্ষ। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়াদের ক্লাস করিয়ে উপস্থিতির হার সংশোধনের মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সোমবারও ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ কমেনি। এখন আগামীকালের বিশ্ববিদ্যালয় বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা শিক্ষামহল—যেখান থেকে ঠিক হবে পরীক্ষার্থীদের ভাগ্য এবং সুরেন্দ্রনাথ কলেজের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান কোন পথে আসে।