সুশান্তের ম্যানেজারের মৃত্যু রহস্যে প্রবল তোলপাড়! সিবিআই-এর এফআইআরে নাম জড়াল আদিত্য ঠাকরে ও রিয়া চক্রবর্তীর!

প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তীব্র শোরগোল তৈরি হয়েছে। বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশের ঠিক দুই সপ্তাহ পর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে নিয়ে সোমবার এফআইআর দায়ের করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। আর এই কেন্দ্রীয় সংস্থার এফআইআর-এ শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা তথা বিধায়ক আদিত্য ঠাকরে, অভিনেতা ডিনো মোরিয়া, সুরজ পাঞ্চোলি এবং রিয়া চক্রবর্তীর মতো একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তৎকালীন উদ্ধব ঠাকরে সরকারের ভূমিকা নিয়েও একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে সিবিআই।

কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল আকস্মিক মৃত্যু বা আত্মহত্যা নয়; বরং খুন, গণধর্ষণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং ভুল তথ্য প্রদর্শনের মতো অত্যন্ত গুরুতর ও কঠোর ধারায় মামলা রুজু করেছে সিবিআই।

‘ষড়যন্ত্র ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটে যুক্ত তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী!’

সিবিআই-এর দায়ের করা এফআইআর-এ মুম্বই পুলিশ এবং তৎকালীন উদ্ধব সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক সব তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং আদিত্য ঠাকরের বাবা উদ্ধব ঠাকরে সহ অন্যান্যরা এই ষড়যন্ত্র এবং পরবর্তীতে গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।” সরকারি নথি ও কেস পেপার লোপাট করা, অফিসিয়াল রেকর্ড জালিয়াতি করা, বেআইনি কাজের জন্য সরকারি অর্থ, পুলিশ ও লোকবল অপব্যবহার করা এবং অপরাধীদের আড়াল করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মী ও পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও আলাদা করে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

আদিত্য ঠাকরে, ডিনো মোরিয়া, সুরজ পাঞ্চোলি এবং রিয়া চক্রবর্তীর পাশাপাশি ময়নাতদন্তে দেরি করার জন্য দায়ী চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মচারীদের ভূমিকাও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দিশার মৃত্যুর সমস্ত নথি ও কাগজাদি তলব করে মুম্বই পুলিশকে চিঠি পাঠিয়েছে সিবিআই।

চার বছর আগের সেই ঘটনা

২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বইয়ের মালাড এলাকার একটি বহুতলের ১৪ তলা থেকে পড়ে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় দিশা সালিয়ানের। তার ঠিক কয়েক দিন পরেই, ১৪ জুন বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই সময় মুম্বই পুলিশ দিশার মৃত্যুকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা এডিআর (Accidental Death Report) হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্তের ইতি টেনেছিল।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশি তদন্তে অনীহা ও গাফিলতির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান। গত সপ্তাহে সিবিআই-এর কাছে দেওয়া বয়ানে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। আর এই পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে এবং তাঁর ছেলে আদিত্য ঠাকরে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছিলেন।

বম্বে হাইকোর্টের কড়া ভর্ৎসনা

গত ২ সেপ্টেম্বর বম্বে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, মুম্বই পুলিশের হাত থেকে এই চাঞ্চল্যকর মামলার সম্পূর্ণ তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এফআইআর না করায় মুম্বই পুলিশকে চরম তিরস্কার করেছিল আদালত। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছিল, পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় একাধিক সঙ্গতিহীনতা সুবিচারের চেয়েও বড় প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পরেও কেন পরিবারকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও এডিআর-এর কপি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি, তা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল আদালত। যে ঘটনাকে মুম্বই পুলিশ এতদিন সাধারণ আত্মহত্যার তকমা দিয়ে ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল, সিবিআই-এর এই এফআইআর এবং নতুন ধারাগুলি যুক্ত হওয়ার পর মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে যে ফের বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *