রোজ দু’বেলা দাঁত মেজেও মুখের দুর্গন্ধ কাটছে না? অজান্তেই এই ৫টি বড় ভুল করছেন না তো!

মুখের দুর্গন্ধ বা হ্যালিটোসিস (Halitosis) এমন একটি সমস্যা, যা কেবল ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসকেই কমিয়ে দেয় না, বরং সামাজিকভাবেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অনেকেই মনে করেন, সকালে উঠে নিয়ম করে দাঁত মাজলে কিংবা ভালো কোম্পানির মাউথওয়াশ ব্যবহার করলেই এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ও সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করার পরেও যদি মুখে দুর্গন্ধের সমস্যা থেকে যায়, তবে এর নেপথ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে দৈনন্দিন জীবনের কিছু ছোট অথচ ক্ষতিকর অভ্যাস বা শারীরিক অভ্যন্তরীণ গোলযোগ।
দাঁত মাজার পরেও মুখে দুর্গন্ধ বজায় থাকার প্রধান কারণগুলি:
জিহ্বা ও মাড়ির ঠিকমতো যত্ন না নেওয়া: অনেকেই কেবল দাঁতের ওপরের অংশে ব্রাশ বুলিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন। অথচ জিভের ওপর জমে থাকা কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া দুর্গন্ধের অন্যতম প্রধান উৎস। জিভ নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এই সমস্যা চলতেই থাকে।
হাইড্রেসশনের অভাব বা জল কম খাওয়া: পর্যাপ্ত পরিমাণে জল না খেলে মুখের ভেতর লালার উৎপাদন কমে যায়। লালা বা স্যালিভা মুখকে প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। লালার পরিমাণ কমলেই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়।
দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা বা ভুল ডায়েট: অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে বা কড়া কেটো ডায়েটের কারণে মেটাবলিজমের পরিবর্তনের ফলে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। এছাড়া পেঁয়াজ, রসুন বা অতিরিক্ত মশলাদার খাবার খাওয়ার পর তার সুক্ষ্ম কণা মুখে আটকে থাকে।
গ্যাস্ট্রিক বা পেটের সমস্যা: মুখের দুর্গন্ধ সবসময় যে দাঁতের ত্রুটির কারণে হয়, তা নয়। অনেক সময় গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল সমস্যা, এসিডিটি কিংবা হজমের গোলযোগের কারণেও পেট থেকে গ্যাস উঠে মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের সেবন: ধূমপান বা গুটখা জাতীয় অভ্যাস মুখের ভেতর আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয় এবং মারি সংক্রামক ব্যাকটেরিয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়:
মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কেবল টুথব্রাশের ওপর ভরসা না করে প্রতিদিন অন্তত দুবার ফ্লোসিং করা, নিয়মিত জিভ পরিষ্কার করা এবং অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি সারাদিনে পর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখলে এবং সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই কোনো দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।