নেই অস্তিত্ব, ঝুলছে তালা! বাংলার বিএড কলেজগুলোতে এত বড় দুর্নীতি? নজিরবিহীন পদক্ষেপে তোলপাড় শিক্ষা মহল

শিক্ষক প্রশিক্ষণ বা বিএড (B.Ed) কলেজগুলির কার্যকারিতা ও পরিকাঠামো নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর। রাজ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এবং গুরুতর অনিয়ম ও পরিকাঠামোগত ত্রুটিতে জর্জরিত ৪৫০টিরও বেশি বিএড কলেজকে কারণ দর্শানোর (Show-cause) নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষামহলের মতে, এই কড়া পদক্ষেপে শিক্ষা ক্ষেত্রে বড়সড় দুর্নীতির পর্দাফাঁস হতে চলেছে।

পরিদর্শনে ধরা পড়ল চাঞ্চল্যকর চিত্র

সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে প্রায় ৬০২টি বিএড কলেজে বিশেষ পরিদর্শন ও মূল্যায়ন চালায় উচ্চশিক্ষা দপ্তর। সেই তদন্তে যা উঠে এসেছে, তা রীতিমতো惊রজনক:

  • ভূতুড়ে ক্যাম্পাস: পরিদর্শকরা নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে দেখতে পান, ৫৩টি কলেজের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই— হয় সেখানে তালা ঝুলছে, নতুবা অন্য কোনো বাণিজ্যিক কাজকর্ম চলছে।

  • ফ্ল্যাটের ঠিকানায় কলেজ: ১৭টি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, বিএড কলেজের নামে অনুমোদন বা এনওসি (NOC) নেওয়া হয়েছে কোনো আবাসিক ফ্ল্যাটের ড্রয়িং রুমে।

  • টাকা দিয়ে ডিগ্রি বিক্রির চক্র: ভিন রাজ্য থেকে ক্লাসে উপস্থিত না হয়েও মোটা টাকার বিনিময়ে সহজেই ডিগ্রি হাসিল করার এক বিশাল চক্রের হদিশ মিলেছে।

কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবেই ‘দোকান’ বানাতে দেওয়া হবে না। নোটিশপ্রাপ্ত কলেজগুলি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে অনুমোদন বাতিল (Affiliation Cancellation) ও নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি বন্ধ রাখার মতো কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাঙ্গনের এই ব্যাপক অসঙ্গতি দূর করতে সরকারের এই জিরো টলারেন্স নীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *