“শুধু মিষ্টি কথায় কাজ হবে না, মাঠে নেমে ডেলিভারি দিতে হবে!” ব্রিকস সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদীর জোরালো বার্তা

ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চটি এখন আর কেবল আলোচনার স্থান নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের এক শক্তিশালী ‘ইকোসিস্টেম’ হয়ে উঠেছে।
সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ (New Delhi Declaration) তুলে ধরে মোদী জোর দিয়ে বলেন, গৃহীত সমস্ত পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তকে এবার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবে রূপ দিতে হবে, যাতে এর সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়।
“তৃতীয় দশকে ব্রিকসের থেকে দ্রুত ফলাফল চায় বিশ্ব”
ব্রিকসের প্রসারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সংগঠনটি এখন তার তৃতীয় দশকে পদার্পণ করতে চলেছে। ফলে বিশ্বের আশা-আকাঙ্ক্ষাও বহুগুণ বেড়েছে।
মোদীর কথায়, “বিশ্ব এখন আমাদের কাছে কেবল ধারণা বা প্রতিশ্রুতির কথা শুনতে চায় না, খুব দ্রুত বাস্তব ফলাফল দেখতে চায়। আমার বিশ্বাস, ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা বিশ্ববাসীর এই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।”
সম্মেলনের মূল প্রস্তাব ও ৪টি মেগা উদ্যোগ:
সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। সার্বিক অগ্রগতির জন্য তিনি চারটি বিশেষ উদ্যোগের প্রস্তাব পেশ করেন:
-
লজিস্টিক্স সাপ্লাই চেন ফ্রেমওয়ার্ক: বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ এবং স্থিতিশীল করা।
-
ব্রিকস স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ড: উদীয়মান স্টার্টআপ ও ইনকিউবেটরগুলিকে আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সহায়তা দেওয়া।
-
ডিজিটাল এগ্রিকালচার নেটওয়ার্ক: এআই (AI), জিওস্পেশিয়াল প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পাবলীক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সাহায্যে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি।
-
প্রযুক্তিতে অন্তর্ভুক্তিকরণ: গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিকে কিছু দেশের একচেটিয়া দখলে না রেখে সর্বজনীন করা।
গ্লোবাল সাউথ ও নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর (Global South) দেশগুলির ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছে ব্রিকস। কারণ এখানে ছোট-বড় সব দেশের অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানানো হয়।
এর পাশাপাশি শনি ও রবিবারের যৌথ ডিক্লারেশনে সদস্য দেশগুলি সম্মত হয়েছে যে, সবুজ শক্তি তৈরি ও শক্তি সুরক্ষার জন্য জরুরি খনিজ পদার্থের টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই ক্ষেত্রে খনিজ সমৃদ্ধ দেশগুলির স্বকীয় সার্বভৌম অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সম্মেলন শেষে পরবর্তী সভাপতি দেশ হিসেবে চিনের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করে সমস্ত রাষ্ট্রনেতাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।