ভারত মণ্ডপমে মোদীর মেগা ঘোষণা! স্টার্টআপ থেকে সাপ্লাই চেন, ব্রিকস মঞ্চে তোলপাড় তৈরি করল ভারতের নতুন প্রস্তাব

দিল্লির ঐতিহাসিক ‘ভারত মণ্ডপম’-এ আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের মূল ওপেন সেশনের সূচনা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় বা থিম ছিল— ‘Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability: Shaping the Future for Inclusive Global Growth’ (অর্থাৎ স্থায়িত্ব, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থিতিশীলতার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের ভবিষ্যৎ রূপায়ণ)।

অধিবেশনের প্রারম্ভিক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্রিকস সদস্য দেশগুলির জন্য একটি নতুন ‘স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ড’-এর প্রস্তাব রাখেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ব্রিকসকে কেবল রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং এর সঙ্গে সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংস্থাকেও যুক্ত করতে হবে।

বিশ্ব সংকটের প্রভাব ও সমন্বিত পদক্ষেপ:

প্রধানমন্ত্রী মোদী বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হওয়া ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনিক জীবনে। মহামারী, জলবায়ু বিপর্যয় এবং বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেনের ব্যাঘাত আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, পৃথিবীর সমস্ত দেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এক অঞ্চলের সংকট অনায়াসেই অন্য দেশকে প্রভাবিত করতে পারে।”

এই ধরণের সংকট থেকে মুক্ত থাকতে ভারতের উদ্যোগে ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে একটি যৌথ কাঠামোর ওপর একমত হওয়া গেছে। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও আগাম সতর্কবার্তা পেতে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘BRICS Integrated Early Warning System’। পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক বা স্বাস্থ্য সংকটের আগাম ডেটা আদান-প্রদানের জন্য বিশেষ গাইডলাইনও তৈরি করা হয়েছে।

ভারতের সভাপতিত্বে ৪টি মূল স্তম্ভ:

নিজের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, ভারতের সভাপতিত্বকালীন সময়ে ব্রিকসের যাবতীয় কর্মপন্থা ৪টি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে— স্থায়িত্ব (Resilience), উদ্ভাবন (Innovation), সহযোগিতা (Cooperation) এবং স্থিতিশীলতা (Sustainability)।

তিনি আরও বলেন, “আমদের যৌথ প্রচেষ্টায় ব্রিকস লজিস্টিকস সাপ্লাই চেন কোঅপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও মজবুত করে তুলবে।”

এমএসএমই এবং তরুণদের জন্য বড় সুযোগ:

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করতে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী:

স্টার্টআপ ইনকিউবেটর নেটওয়ার্ক: বিভিন্ন দেশের নতুন স্টার্টআপগুলিকে এক ছাতার তলায় আনতে এই নেটওয়ার্ক ও ফান্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

BRICS Connect: এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা হবে।

BRICS MSME Portal: ছোট ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাজারে সংযোগ তৈরি এবং সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই পোর্টালটি চালু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা বিশ্বের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং গ্লোবাল সাউথ-এর ভবিষ্যৎ গঠনে ব্রিকসের অবস্থানকে আরও জোরালো করল বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *