মার্কিন আগ্রাসনে রাশ টানতে হবে গোটা বিশ্বকে! ব্রিকসে বিস্ফোরক দাবি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর প্রতি সম্মান জানাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত মার্কিন আগ্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে জোরালো ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান ইরান-মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক নানা সমীকরণ নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, ইরান সবসময় কূটনীতি এবং সংলাপের পথকে স্বাগত জানায় এবং এই লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশের স্বার্থ ও স্বাক্ষরিত চুক্তির কোনো ধরনের লঙ্ঘন তেহরান কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না।
আব্বাস আরাঘচি আরও বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পূর্বের সমঝোতা স্মারক বা চুক্তিকে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সম্মান করতে হবে। যদি আমেরিকা চুক্তির শর্ত মেনে চলে এবং নিজেদের বাধ্যবাধকতাগুলো সঠিকভাবে পালন করতে শুরু করে, তবে ইরানও স্বাভাবিক নিয়মেই চুক্তির শর্তাবলী পূরণে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
এদিকে, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন ডলারের আধিপত্য কমানোর বড় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পারস্পরিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্থানীয় ও জাতীয় মুদ্রা ব্যবহারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন ব্রিকস নেতারা। এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে হওয়া আলোচনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মূল সম্মেলনের পাশাপাশি শনিবার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যকার বৈঠকটি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এর আগে বিশকেকে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের সময়ও এই দুই শীর্ষ নেতা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।