ট্রায়ালে জিতেও বাদ এশিয়ান গেমসের দল থেকে! অপমানে আত্মহত্যার কথা ঘোষণা করে কোন বিস্ফোরক ভিডিও ছড়ালেন তরুণী খেলোয়াড়?

ভারতীয় খেলায় বিতর্ক যেন পুরোনো দিনের সঙ্গী। তবে আসন্ন এশিয়ান গেমস শুরুর ঠিক আগে যে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সামনে এল, তাতে রীতিমতো শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। ট্রায়ালে জয়ী হয়েও এশিয়ান গেমসের দল থেকে হঠাৎ বাদ পড়ে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তরুণী উশু (Wushu) খেলোয়াড় दिव्यांशी चौधरी (Divyanshi Choudhary)। শুধু তাই নয়, সমস্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং চরম হতাশা থেকে ভিডিও প্রকাশ করে আত্মহত্যার কথা পর্যন্ত বলেছেন এই উদীয়মান অ্যাথলেট।
ট্রায়ালে জিতেও কীভাবে বাদ পড়লেন दिव्यांशी?
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে শুরু হতে চলেছে এশিয়ান গেমস ২০২৬। এই মেগা টুর্নামেন্টের জন্য কঠোর ট্রায়ালের মাধ্যমে ভারতীয় উশু দল নির্বাচন করা হয়েছিল। যেখানে মহিলাদের ৬০ কেজি ওজন বিভাগে দুর্দান্ত লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন রাজস্থানের কোটার ১৮ বছর বয়সি তরুণী দিব্যাংশী চৌধুরী।
সব প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষের পথে, ঠিক তখনই গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আচমকাই দিব্যাংশীকে জানানো হয় যে তিনি এশিয়ান গেমসের মূল দলের অংশ নন। তাঁর পরিবর্তে দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রোশিবিনা দেবী নাওরেমকে—যাঁকে কিনা কিছুদিন আগেই ট্রায়ালে হারিয়েছিলেন দিব্যাংশী।
এনআইএসের ছাদ থেকে ভাইরাল ভিডিও ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ:
এই আকস্মিক ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে পাতিয়ালার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্পোর্টস (NIS)-এর ছাদ থেকে একটি দীর্ঘ ভিডিও বার্তা শুট করেন দিব্যাংশী, যা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়ে ৯ মিনিটের ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমি এর জন্য বাধ্য হয়েছি, আমি খুব তং হয়ে গেছি এবং আমার মনে হয় না এগিয়ে বাঁচার কোনো মানে আছে। আমাকে মানসিকভাবে প্রতিদিন প্রতাড়িত করা হচ্ছে।”
দিব্যাংশীর গুরুতর অভিযোগ, রোশিবিনা দেবী নিজের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এবং মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে তাঁর নাম দল থেকে বাদ দিয়েছেন। এমনকি তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ভিডিওর শেষাংশে মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজের কিট ব্যাগ দেখিয়ে আত্মহত্যার চরম পথ বেছে নেওয়ার কথা বলেন এই অ্যাথলেট।
কী সাফাই দিল উশু অ্যাসোসিয়েশন?
স্পোর্টস্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় উশু অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পরিষ্কার জানিয়েছেন যে দিব্যাংশীর নাম তাঁরা বাদ দেননি, বরং এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI)। তাদের দাবি, দিব্যাংশী তাঁর হাঁটুতে গুরুতর আঘাতের বিষয়টি গোপন করেছিলেন এবং চোটের কারণে তিনি ঠিকমতো ট্রেনিংয়েও অংশ নিচ্ছিলেন না। SAI-এর চিকিৎসকদের করা মেডিকেল টেস্টেই সেই চোটের সত্যতা ধরা পড়ে। অ্যাসোসিয়েশনের আরও দাবি, ফাইনালে পৌঁছানো অন্য এক প্রতিযোগীও আহত থাকায় নিয়মানুযায়ী সেমিফাইনালে পরাজিত রোশিবিনাকেই দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে কারণ যাই হোক না কেন, একজন জাতীয় স্তরের খেলোয়াড়ের এমন আত্মঘাতী পদক্ষপের হুমকিতে ভারতীয় ক্রীড়ামহলে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে।