অফিসে বন্ধু ভেবে পাশে বসিয়েছেন? অজান্তেই আপনার সর্বনাশ করছে না তো এই ‘গোপন শত্রু’!

অফিস পলিটিক্স বা সহকর্মীদের রেষারেষি এখন প্রায় সব পেশাতেই এক পরিচিত ছবি। আপনি হয়তো অত্যন্ত মন দিয়ে নিজের কাজ করে যাচ্ছেন এবং বসের প্রশংসাও কুড়োচ্ছেন, কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলেন পাশের সিটের সহকর্মীর আচরণে অদ্ভুত পরিবর্তন এসেছে। আপনার সাফল্য দেখে কেউ গোপনে হিংসে করছে কি না বা আপনার আড়ালে ষড়যন্ত্র চলছে কি না, তা বুঝে ওঠা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে মনোবিদদের মতে, এমন পরিস্থিতি এড়াতে সময় থাকতেই সতর্ক হওয়া জরুরি।
গোপন হিংসেকে চিনবেন কী করে?
মনোবিদরা জানাচ্ছেন, অন্যের ভালো দেখে মনের ভেতরে যে রাগ বা কষ্ট তৈরি হয়, সেটাই ঈর্ষা। যাঁরা সরাসরি শত্রুতা করেন, তাঁদের চেনা সহজ হলেও মূল সমস্যা তৈরি করেন তাঁরা, যাঁরা গোপনে হিংসা করেন। সামনে অত্যন্ত বন্ধুভাবাপন্ন সেজে থাকলেও এরা সুযোগ পেলেই ক্ষতি করতে পিছপা হন না।
সহকর্মীর মধ্যে এই লক্ষণগুলি প্রকাশ পেলে বুঝবেন তিনি গোপনে আপনার ক্ষতি চাইছেন:
খুঁত ধরা ও ব্যঙ্গ: এরা সবসময় আপনার কাজের ভুল বের করার চেষ্টা করবেন এবং আপনার প্রতিটি কথা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় মজা বা ব্যঙ্গ করবেন।
প্রশংসার কৃপণতা: আপনার দুর্দান্ত কাজ বা সহায়তার পরেও এঁরা মুখে একটা ধন্যবাদ পর্যন্ত আনবেন না।
অযাচিত ও ভুল উপদেশ: আপনাকে এমন সব কাজের বুদ্ধি বা পরামর্শ দেবেন, যা আদতে আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কাজে বাধা ও কৃতিত্ব চুরি: আপনার কাজের পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি আপনার কাজ নকল করে বসের কাছে বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
সাফল্যকে ছোট করা: আপনার প্রোমোশন বা বড় সাফল্যকে তাঁরা বরাবরই তুচ্ছ করে দেখানোর চেষ্টা করবেন।
গুজব রটানো ও পিছুটান: আপনার অগোচরে নানা মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে আপনাকে হেয় করা এবং পিছু ফিরে হাসাহাসি করাই এঁদের স্বভাব।
হঠাৎ আচরণের বদল: যাঁকে একসময় অত্যন্ত বিশ্বাস করতেন, তাঁর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখলে সতর্ক হোন এবং ব্যক্তিগত কথা বলা বন্ধ করুন।
দু’মুখো স্বভাব: মুখের ওপর প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিলেও আড়ালে আপনার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা করাই এঁদের আসল রূপ।
গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া: অত্যন্ত চতুরভাবে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নিয়ে পরে তা পুরো অফিসে ছড়িয়ে দিতে পারেন এঁরা।
অফিসে নিজের মানসিক শান্তি বজায় রেখে কাজ করতে চাইলে এই লক্ষণগুলির দিকে নজর রাখুন। যদি সহকর্মীদের মধ্যে এমন আচরণ দেখতে পান, তবে আজ থেকেই দূরত্ব বজায় রাখুন, নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী হন এবং ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাদার জীবন আলাদা রাখুন।