জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল কাণ্ডে বড় মোড়! প্রধান শিক্ষককে নিগ্রহের ঘটনায় অবশেষে আটক এক ছাত্র

এটাই কি আধুনিক যুগের গুরুদক্ষিণা? শিক্ষক দিবসের খাওয়া-দাওয়াকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নিগ্রহের সেই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছিল রাজ্যবাসী। ওই ঘটনার পর থেকেই চার ছাত্রকে স্কুল থেকে টিসি (TC) দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই চাঞ্চল্যকর কান্ডেই পুলিশি জালে ধরা পড়ল এক অভিযুক্ত ছাত্র। আজ, শনিবার ধৃতকে জুভেনাইল আদালতে তোলা হচ্ছে।
হাসপাতাল থেকে নেমেই থানায় এফআইআর
হাসপাতালে দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সবেমাত্র ছুটি পেয়েছেন আক্রান্ত প্রধান শিক্ষক ধর্ম চাঁদ বারই। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই তিনি সরাসরি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষক দিবসের ওই অনুষ্ঠানে কেবল স্কুলের ছাত্ররাই নয়, বরং বহিরাগতরাও হামলা চালাতে অংশ নিয়েছিল।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কড়া পদক্ষেপ
প্রধান শিক্ষকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে এই হামলায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে এক ছাত্রকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। আজ তাকে জুভেনাইল আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, হামলায় আর কারা কারা সরাসরি জড়িত ছিল, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে।
মন্ত্রীর পরিদর্শন ও শিক্ষামন্ত্রীর সাফাই
অন্যদিকে, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা পরিদর্শক বা ডিআই-কে লিখিত আবেদন জানিয়েছে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনগুলি।
এরই মধ্যে গতকাল স্কুল পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। দীর্ঘক্ষণ স্কুলের ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। কার কী অভাব-অভিযোগ রয়েছে, তা জানার পাশাপাশি ছাত্ররা কতটা ভারী স্কুল ব্যাগ বহন করে, তাও সরজমিনে খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই চারজন ছাত্রকে স্কুল থেকে টিসি (TC) দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তবে ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে সম্পূর্ণ নষ্ট না হয়ে যায়, সেই কথা মাথায় রেখে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন যে, জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হলেও ওই ছাত্ররা অন্য কোনও স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।