মির্জাপুর’-এর রক্তক্ষয়ী দুনিয়ায় জौन এলিয়ার ম্যাজিক! পর্দার আড়ালে লুকিয়ে কোন মর্মান্তিক প্রেমের গল্প?

মারপিট, খুন-খারাবি, বন্দুকের গর্জনে কাঁপানো ক্ষমতার লড়াই— এই সমস্ত চেনা উপাদানের বাইরে গিয়ে এবার বড় পর্দায় এক নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ (Mirzapur: The Movie)। রক্ত ও বারুদের এই হিংসাত্মক দুনিয়ার ঠিক মাঝখানে কীভাবে শেকড় গেড়ে বসেছে বিখ্যাত উর্দু কবি জौन এলিয়ার (Jaun Elia) বিখ্যাত নজম ‘রম্ব’ (Ramz), তা এখন নেটপাড়ার অন্যতম হট টপিক।
সিনেমায় যেভাবে এল জৌন এলিয়ার ছোঁয়া ছবির চিত্রনাট্যকার পুনীত কৃষ্ণা এই সিনেমায় গল্পকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য জৌন এলিয়ার শরণাপন্ন হয়েছেন। ছবির একটি বিশেষ দৃশ্যে দেখা যায়, হিংসাত্মক দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা দুই চরিত্র— বাবলু এবং গোলু— একটি বইয়ের দোকানে এসে হাজির হয়। সেখানে বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে জৌন এলিয়ার কবিতার পঙক্তি দিয়ে একে অপরের না বলা অনুভূতির প্রকাশ ঘটায়। বাবলু শুরু করেন: “तुम जब आओगी तो खोया हुआ पाओगी मुझे / मेरी तन्हाई में ख्वाबों के सिवा कुछ भी नहीं”
আর ঠিক তখনই পাশ থেকে গোলু বাকি লাইনগুলো মিলিয়ে দেন: “मेरे कमरे को सजाने की तमन्ना है तुम्हें / मेरे कमरे में किताबों के सिवा कुछ भी नहीं”
হিংসার দুনিয়ার বাসিন্দা হয়েও এই দুই চরিত্র যে আদতে এক আলাদা মননের অধিকারী, তা পরিচালক অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এই কবিতার মাধ্যমে।
কী নেপথ্যে রয়েছে এই নজমের করুণ ইতিহাস? যে নজম বা কবিতাটি আজ বড় পর্দায় মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে, তার জন্ম হয়েছিল এক চরম বিষাদ ও ভাঙনের মধ্য দিয়ে। পাকিস্তানের প্রখ্যাত লেখিকা ও সাংবাদিক জাহিদা হিনার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন জৌন এলিয়া। ১৯৭০ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও, পরবর্তীতে মতপার্থক্য ও বিপরীত স্বভাবের কারণে ১৯৮৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে।
জাহিদার প্রস্থান জৌন এলিয়াকে একেবারে ভেঙে দিয়েছিল। করাচির এক ছোট্ট ঘরে কেবল বই, ধুলো, সিগারেটের ছাই আর সীমাহীন নিঃসঙ্গতা সঙ্গী হয়েছিল তাঁর। আর সেই চরম একাকিত্বের অন্ধকার থেকেই জন্ম নিয়েছিল অমর এই সৃষ্টি— ‘রম্ব’। আজ সেই কবি ও তাঁর কবিতার রেশই অদ্ভুতভাবে মিলে গেছে ‘মির্জাপুর’-এর অন্ধকারের সঙ্গে, যা সিনেমাটিকে দর্শকদের কাছে আরও বেশি আবেগঘন করে তুলেছে।