‘কাউকে কিছু চাপাতে চাইনি’-পুজোয় আমিষ বিতর্ক নিয়ে সাফাই বাগেশ্বর বাবার

দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে নিজের করা মন্তব্যের জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক থেকে দূরত্ব তৈরি করতে চাইলেন বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। স্কটল্যান্ডে বসে তিনি দাবি করেছেন, কারও খাদ্যাভ্যাস বা ব্যক্তিগত জীবনে নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।স্কটল্যান্ড থেকে তিনি বললেন, ‘আমি আপনার খাওয়া নিয়ে কেন বলব? আপনারা তো আমাদের নিজের। আমি কেন বলব?’

কিছুদিন আগে হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে যোগ দিতে এসে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন যে, পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলের কাছাকাছি এলাকায় আমিষ খাবার খাওয়া বা তৈরি করা তাঁর পছন্দ নয়। এই মন্তব্য ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি শাসক শিবিরের একাংশও এই বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়। এমনকি কোথাও কোথাও তাঁর ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদের ঘটনাও সামনে আসে।

বিতরকের জল দূরদূরান্তে গড়ালে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে বাধ্য হন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলার মানুষ কী খাবেন বা খাবেন না, তা ঠিক করার অধিকার কারও নেই। তবে এর উলটো ছবিও দেখা যায়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য বাগেশ্বর বাবার পাশেই দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেন যে, তিনি নিজের ভাবনা থেকে কথাগুলি বলেছেন এবং কাউকে কিছু জোর করে মানাতে চাননি।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবার বিদেশ থেকেই সাফাই দিলেন এই ধর্মগুরু। স্কটল্যান্ডে এক প্রতিক্রিয়ায় বাগেশ্বর বাবা বলেন, ভক্তদের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে তাঁর কথা বলার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর দাবি, তিনি কেবল দেবীর পবিত্রতা বজায় রাখার কথা বলেছিলেন এবং প্যান্ডেলের পরিবর্তে বাড়িতে বসে আমিষ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ধর্মগুরুর দায়িত্ব হিসেবে হিংসা ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে কথা বলা তাঁর কাজ হলেও, কারও দৈনন্দিন অভ্যাসে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছে তাঁর ছিল না বলেই দাবি করেছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *