১৯৮০-র ট্রেন্ডে ছবি বানিয়ে চরম সর্বনাশের মুখে? নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারছেন না তো!

সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই এখন ট্রেন্ডিংয়ে ১৯৮০-র দশকের স্টাইলের ছবি। চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) বা গুগল জেমিনির মতো এআই টুলের মাধ্যমে নিজের বা প্রিয়জনের ছবিকে পুরোনো নস্ট্যালজিক লুকে বদলে ফেসবুকে বা ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করছেন হাজার হাজার মানুষ। লাইক, কমেন্ট ও রিচ পাওয়ার ইঁদুরদৌড়ে মজে থাকা এই নেটিজেনরাই অজান্তেই নিজেদের সবথেকে বড় সর্বনাশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে সতর্ক করলেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।

কী বলছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা? ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের কর্ণধার সন্দীপ সেনগুপ্তের মতে, এই ট্রেন্ডে অন্ধের মতো গা ভাসানো মানে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারা। তাঁর ব্যাখ্যা, আগামী দিনে সাইবার সিকিউরিটি দুনিয়ায় প্রচলিত পাসওয়ার্ড প্রথা সম্পূর্ণ উঠে গিয়ে চালু হতে চলেছে ‘পাস-কী’ (Passkey) ব্যবস্থা। ফোন, ল্যাপটপ বা ইমেল লগইন করার ক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা হবে মুখের ফেসিয়াল স্ক্যান অথবা আঙুলের ছাপ।

আর ঠিক এখানেই লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক বিপদ। মানুষ যখন এআই-এর মাধ্যমে নিজের মুখের ছবি জেনারেট করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিচ্ছেন, তখন তাঁরা প্রকারান্তরে নিজেদের ইউনিক ফেসিয়াল বায়োমেট্রিক ডাটা বা ডিজিটাল পাসওয়ার্ডটিই জনসমক্ষে তুলে দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি, চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য এআই সংস্থাগুলি এই ছবিগুলি ব্যবহার করে তাদের মডেলকে আরও উন্নত করার লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সামান্য কিছু ভিউ বা লাইকের লোভে নিজের প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা জলাঞ্জলি দেওয়ার এই প্রবণতা ভবিষ্যতে ডেকে আনতে পারে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *