“ডলারের রাজত্বে বিরাট ধস!”-ব্রিকসের নতুন চালে কোণঠাসা আমেরিকা, ঘুম কাড়ল পুতিনের মাস্টারস্ট্রোক

আমেরিকা ও ইউরোপের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিশ্ব বাণিজ্যে এবার এক বিরাট চাল দিল রাশিয়া ও চিন। মুখে যতই আন্তর্জাতিক লেনদেনকে বৈচিত্র্যময় করার কথা বলা হোক না কেন, পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। বর্তমানে চিন ও রাশিয়ার মধ্যকার ৯০ শতাংশের বেশি বাণিজ্যই সম্পন্ন হচ্ছে নিজস্ব মুদ্রা ইউয়ান এবং রুবলে, যেখানে মার্কিন ডলারের কোনো বাফুফেই নেই। আমেরিকার প্রধান আর্থিক প্রতিদ্বন্দ্বী চিন নিজেদের ডিজিটাল মুদ্রা চালুর পাশাপাশি বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম তৈরি করায় গভীর সঙ্কটের মুখে পড়েছে মার্কিন ডলারের আধিপত্য।
এমন এক উত্তাল পরিস্থিতিতে ভারতে বসতে চলেছে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন। ভারত, রাশিয়া, চিন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশের এই জোটে বিশ্বের মোট অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে ব্রিকসের মঞ্চ থেকে ডলারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা বা নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্যের বড় ঘোষণা এলে তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে এক গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে চিন ও রাশিয়া সরাসরি ডলার পরিহারের পথে হাঁটলেও ভারতের অবস্থান অত্যন্ত বাস্তববাদী ও ভারসাম্যপূর্ণ। নয়াদিল্লি কোনো একচ্ছত্র মুদ্রার পরিবর্তে একটি বহুমেরু আর্থিক ব্যবস্থার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতীয় টাকার ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে। যদিও স্থানীয় মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চালানোর ক্ষেত্রে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন, রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনার পর ভারতের টাকায় পেমেন্ট পেলেও, সেই বিপুল অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করবে রাশিয়া—তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে। তবুও ব্রিকস সম্মেলনের ঠিক আগে ডলারের এই নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।