পাকিস্তানে ২ হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ, জোর করে ধর্মান্তকরণ, বিয়ে করল মুসলিমরা

বাবা-মায়ের কোলে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। আদালতের দ্বারস্থ হয়েও কোনো লাভ হলো না ১৩ ও ১৪ বছরের দুই হিন্দু নাবালিকা বোনের। তাদের আর্জি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিল পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের আদালত। এই হৃদয়বিদারক রায় শোনার পরই আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়ে সীতা এবং রূপী নামের ওই দুই কিশোরী।

পাক সাংবাদিক এবং সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষাকারী বিভিন্ন সংগঠনের রিপোর্ট অনুযায়ী, কাচ্চি কোলহি জনজাতির এই দুই বোনকে সম্প্রতি অপহরণ করা হয়। এরপর তাদের ওপর জোর করে ইসলাম ধর্ম চাপিয়ে দিয়ে আমজাদ সোলাঙ্গি ও মনসুর সোলাঙ্গির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন ‘সিন্ধ রেনেসাঁ’ এই দুই নাবালিকার আইনি লড়াই চালাচ্ছে।

সিন্ধ প্রদেশের তান্দো আল্লাহার জেলা আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ওই দুই বোনকে আপাতত একটি সেফ হাউসে রাখা হবে। বিচারকের সামনে হাতজোড় করে তারা বলেছিল, ‘দয়া করে আমাদের বাড়ি যেতে দিন।’ পাকিস্তানি সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ভীনগাস সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যা ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক ১৪ বছরের হিন্দু নাবালিকা পানসি কোহলিকে তান্দো আল্লাহা থেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ভীনগাস। তাঁর দাবি, মাত্র দশ দিনের মধ্যে সিন্ধ প্রদেশ থেকে ৬ জন হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের ‘সিন্ধ চাইল্ড ম্যারেজ রিস্ট্রেইন্ট অ্যাক্ট, ২০১৩’ অনুযায়ী ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর নির্ধারিত রয়েছে। আইন অনুযায়ী নাবালিকা বিবাহ দেওয়া বা তাতে সহায়তা করা সম্পূর্ণ অ-জামিনযোগ্য অপরাধ। তা সত্ত্বেও কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মহল। মানবাধিকার কর্মী আয়েশা গিল এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘ওরা শিশু, কোনো কনে বা স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত ব্যক্তি নয়।’

এমেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রতি বছর শত শত তরুণী হিন্দু নারী এই ধরনের অপহরণ ও বলপূর্বক ধর্মান্তরের শিকার হন। কোলহি, ভীল ও মেঘওয়ারের মতো প্রান্তিক ও দরিদ্র সম্প্রদায়গুলোর মানুষ আইনি সহায়তার অভাবে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অবিলম্বে মেয়েদের সঠিক বয়স যাচাই এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের বক্তব্য শোনার দাবি তুলেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *