দিল্লিতে পা রাখলেন পুতিন, মোদীর সঙ্গে বৈঠকে কোন বড় অস্ত্র ও শান্তির বার্তা?

ব্রিকস (BRICS) সামিটে যোগ দিতে তিন দিনের ভারত সফরে দিল্লি এসে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার বাইরে এই প্রথম কোনো ব্রিকস সম্মেলনে সশরীরে অংশ নিচ্ছেন তিনি। পালাম এয়ারফোর্স স্টেশনে তাঁকে স্বাগত জানান বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কৃতী বর্ধন সিং। আজ দুপুর সাড়ে তিনটেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

দিল্লি সফরের প্রাক্কালে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায় লিখেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নেতারা ব্রিকস সম্মেলনে একত্রিত হবেন। বিশ্বকল্যাণের লক্ষ্যে এই সম্মেলনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা হবে বলে তিনি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।

প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে বড় চুক্তির সম্ভাবনা

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মজবুত করার ওপর জোর দেওয়া হবে। রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ তৈরির বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের বাকি ইউনিটগুলি দ্রুত ভারতকে সরবরাহ করার কাজ সম্পূর্ণ করতে মস্কো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশের মধ্যে সু-৫৭ যুদ্ধবিমান সরবরাহের প্রস্তাব নিয়েও কথা এগোচ্ছে। এছাড়া ভারতের নতুন পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন এবং জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিশ্ব শান্তি প্রসঙ্গ

গত সপ্তাহে বিশকেকে এসসিও (SCO) সামিটে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আজকের বৈঠকেও ইউক্রেন সংকট থামানো এবং শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে বিস্তারিত মতবিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানের বিভক্ত ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্রিকস জোটকে একটি অত্যন্ত কার্যকর ও শক্তিশালী মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে নয়াদিল্লি।

বিশ্বের হেভিওয়েট নেতাদের মহাসমাবেশ দিল্লিতে

শনিবার থেকে শুরু হতে চলা এই দুদিনের ব্রিকস সম্মেলনে খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। চলতি সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতা। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ভারতে সফরে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, যা বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *