শহরে ট্রাফিক জ্যামে চরম ভোগান্তি! তবুও ব্রিকস সামিটে বিশ্বের হেভিওয়েট নেতাদের নিরাপত্তা কেন ভারতের বড় পরীক্ষা?

রাজধানী দিল্লিতে শুরু হওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে চলা ব্যাপক নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেলেও, এই মেগা ইভেন্টের বিশালতা এবং কৌশলগত গুরুত্ব বিচার করলে এর নেপথ্যের কারণগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এবারের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশ এবং ১০টি পার্টনার দেশের পাশাপাশি একাধিক আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদলের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন।
বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে ভারতের আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। প্রতিটি রাষ্ট্রনেতাকে দিনে একাধিকবার বিমানবন্দর, হোটেল, সম্মেলনস্থল এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য যাতায়াত করতে হয়। এর ফলে প্রতিদিন শহরজুড়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উচ্চ-নিরাপত্তার ভিভিআইপি গতিবিধি পরিচালনা করতে হয় ট্রাফিক বিভাগকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি মুভমেন্টের জন্য আলাদা রুট নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ডাইভারশন করতে গিয়ে সাধারণ নিত্যযাত্রীদের সাময়িক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সাময়িক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপদ করিডোর তৈরির ঘটনা বিশ্বের যেকোনো বড় দেশের রাজধানী শহরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিয়মিত বিষয়। ভারতের অর্থনৈতিক এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ততই দেশ বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বৈশ্বিক নেতার আগমন ঘটবে ভারতে। তাই সাময়িক এই যাতায়াতের অসুবিধা ছাপিয়ে বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার এই মেগা আয়োজন ভারতের মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করতে চলেছে।