প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে তাক লাগানো কর্মসূচি! রাজ্যজুড়ে এক কোটি পরিবার জ্বালবে আশীর্বাদের প্রদীপ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আসন্ন ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজ্য সরকারের একগুচ্ছ মেগা কর্মসূচি। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই সুদীর্ঘ ও বর্ণময় কার্যকালকে মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে নবান্ন সভাঘরে মন্ত্রী, বিধায়ক ও শীর্ষ আমলাদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে রাজ্যজুড়ে এক মাসব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সূর্যাস্তের পর ‘আশীর্বাদও কি দিয়া’ বা আশীর্বাদের প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে এই বর্ণাঢ্য উদযাপনের সূচনা হবে। রাজ্যজুড়ে অন্তত এক কোটি পরিবার এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে কলকাতার গঙ্গাতীরবর্তী বিভিন্ন ঘাট, নবান্ন, রাইটার্স বিল্ডিং, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং কালীঘাট মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থানগুলি বর্ণিল প্রদীপের আলোয় সাজিয়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের ৮০ হাজারের বেশি স্কুলেও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কুইজ, বিতর্ক ও তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মতো বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, পিএম কিষাণ এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনমুখী প্রকল্পগুলির সুবিধাভোগী পরিবারগুলিকে নিয়ে ‘নমো সেবা গাথা’ ও ‘কাহানি বদলাও কি’-র মতো বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল স্তরে সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক জীবনে আসা ইতিবাচক পরিবর্তনগুলি তুলে ধরা।
আগামী ৭ অক্টোবর ‘সেবা যাত্রা’ ও প্রতিটি জেলা সদরে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ২১ দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সমস্ত জেলাকে সম্বোধন করবেন। এছাড়া নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে নিয়ে ‘রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ এবং পর্যটন ও বন দফতরের উদ্যোগে ১০৮ মিটারের সুবিশাল ‘রঙ্গোলি রাষ্ট্র’ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে আসন্ন উপনির্বাচনের কথা মাথায় রেখে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে সরকারি স্তরে কোনও অনুষ্ঠান না হলেও, সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত বা সামাজিক স্তরে এই উৎসবে শামিল হতে পারবেন বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।