রাতের অন্ধকারে মার্কিন ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলা ইরানের! গুঁড়িয়ে গেল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধবিমান।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে ফের চরম উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম এশিয়ায়। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবারের মধ্যে জর্ডানের মুওয়াফফাক আল-সালতি এয়ার বেসে ভয়াবহ হামলা চালাল ইরান। এই অতর্কিত হামলায় একাধিক মার্কিন সামরিক বিমান ও যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বের শক্তিশালী যুদ্ধবিমান

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইরানের এই হামলায় প্রায় আটটি অত্যাধুনিক F-15 যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও প্রাথমিক মেরামতের পর সেগুলিকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যতম সফল মার্কিন যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত এই বিমানের পাশাপাশি গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে ‘Warthog’ নামে পরিচিত একটি A-10 Thunderbolt যুদ্ধবিমান। ইরানের নিখুঁত হামলায় বিমানটির একদিকের ডানা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই হামলায় কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটেনি।

তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস ও পালটা হুংকার

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) একটি মার্কিন নৌজাহাজের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। যার জেরে পালটা জবাব দেয় আমেরিকা। গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড অন্তত পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করে দেয়। সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস পরপর দু’বার ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ে মার্কিন নৌবহরকে টার্গেট করেছিল।

এই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। ইরানের পক্ষ থেকে ‘নো-গো জোন’ বা নিষিদ্ধ এলাকার পরিধি আরও বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি হরমুজ প্রণালীর বাইরেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে বলে খবর।

কী বলছে আমেরিকা?

পরিস্থিতি যখন চরম আকার ধারণ করেছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতের ইতি ঘটতে পারে। তাঁর মতে, ইরান আর দীর্ঘকাল এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে অর্থনৈতিক সংকটের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *