পাকিস্তান-সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত! প্রথমবার বাস্তবায়নে নামছে কে?

পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা ‘মক্কা চুক্তি’ এবার প্রথমবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে। আর এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে নেতৃত্ব দিতে চলেছে খোদ পাকিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল ও জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের সাম্প্রতিক মন্তব্য গোটা বিশ্বে ব্যাপক তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।

সৌদির উপর হামলা মানেই কি পাকিস্তানের উপর আক্রমণ?

সম্প্রতি সৌদি আরবের উপর হুথিদের হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। এরপরেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘মক্কা চুক্তি’র শর্ত অনুযায়ী সৌদি আরবের উপর আগ্রাসন বাড়লে বা ইয়েমেনের এই সংঘাত সরাসরি সৌদি ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী তিন সদস্য দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে আক্রমণ হলে তা সকলের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রয়োজন পড়লে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক যৌথভাবে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ করবে।

কী এই ‘মক্কা চুক্তি’?

গত মাসেই পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে এই বিশেষ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক যৌথ সুরক্ষা—অর্থাৎ সদস্য দেশগুলোর কোনো একটির বিরুদ্ধে বাইরে থেকে আগ্রাসন চললে বাকিরা প্রতিরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়বে। তবে একে কোনো আক্রমণাত্মক জোট হিসেবে দেখাতে নারাজ ইসলামাবাদ। খাজা আসিফ স্পষ্ট করেছেন যে চুক্তিটির চরিত্র সম্পূর্ণভাবে প্রতিরক্ষামূলক। অর্থাৎ কেউ আক্রমণ করলে তবেই যৌথ প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে, অন্যথায় নিজে থেকে কোনো দেশ আক্রমণ শুরু করলে বাকিরা সেই যুদ্ধে জড়াবে না।

সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কি ইয়েমেনে স্থল অভিযান?

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের এই সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সাল থেকেই সৌদি জোট ইয়েমেনে হুথি দমনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ইরান-সমর্থিত এই হুথি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব যদি এই হামলার জবাবে ফের ইয়েমেনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বড়সড় স্থল অভিযান শুরু করে, তবেই তা হবে ‘মক্কা চুক্তি’র সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা। সৌদি আরব আক্রান্ত হলে পাকিস্তান যে সর্বশক্তি দিয়ে পাশে দাঁড়াবে, সেই পরিষ্কার বার্তাই আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে দিয়েছে ইসলামাবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *