বিদ্যুৎ বিল আসবে একেবারে শূন্য! ছাদেই সোলার বসালে সরকার দিচ্ছে ১ লক্ষ টাকার বেশি ভর্তুকি

বিদ্যুতের চড়া বিল নিয়ে কি প্রতি মাসে মাথায় হাত পড়ে? একটু বুদ্ধি করে বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসাতে পারলেই বিদ্যুতের খরচ একেবারে শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব। শুধু তাই নয়, সোলার প্যানেল বসানোর জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফে বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের ভর্তুকি। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাদের জন্য এই সুযোগ আরও বড়, কারণ সেখানে ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের UPNEDA প্রকল্পের সুবিধাও একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।
কত মিলবে ভর্তুকি?
কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশ সরকারের দুই প্রকল্পের সুবিধা একসঙ্গে নিলে ভর্তুকির পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায়। যেমন—
১ কিলোওয়াট: কেন্দ্রের ৩০,০০০ টাকা + রাজ্যের ১৫,০০০ টাকা = মোট ৪৫,০০০ টাকা
২ কিলোওয়াট: কেন্দ্রের ৬০,০০০ টাকা + রাজ্যের ৩০,০০০ টাকা = মোট ৯০,০০০ টাকা
৩ কিলোওয়াট: কেন্দ্রের ৭৮,০০০ টাকা + রাজ্যের ৩০,০০০ টাকা = মোট ১,০৮,০০০ টাকা
এর বেশি ক্ষমতার সোলার প্যানেল বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী বসানো গেলেও, ভর্তুকি সর্বোচ্চ ৩ কিলোওয়াট পর্যন্তই পাওয়া যাবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
প্রথমে প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে ‘Apply for Rooftop Solar’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর রাজ্য হিসেবে উত্তরপ্রদেশ এবং নিজের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা নির্বাচন করে কনজিউমার নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ই-মেল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের পর লগইন করে কত কিলোওয়াটের সোলার সিস্টেম বসাতে চান, তা জানিয়ে আবেদন করতে হবে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিল এবং প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে। আবেদন করার পর স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বা DISCOM বাড়ি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করে অনুমোদন দেবে।
ভর্তুকি পেতে হলে সরকারি পোর্টালে তালিকাভুক্ত কোনো রেজিস্টার্ড ভেন্ডরের কাছ থেকেই সোলার প্ল্যান্ট বসানো বাধ্যতামূলক। ভেন্ডর প্যানেল, ইনভার্টার ও নেট মিটারিংয়ের ব্যবস্থা করার পর DISCOM-এর আধিকারিকরা সমস্ত সিস্টেম পরীক্ষা করে একটি কমিশনিং সার্টিফিকেট তৈরি করবেন।
কবে হাতে আসবে ভর্তুকির টাকা?
কমিশনিং সার্টিফিকেট তৈরি হওয়ার পর পোর্টালে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং একটি বাতিল চেক আপলোড করতে হয়। নথিপত্র যাচাই হয়ে গেলে ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে কেন্দ্রের সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা এবং রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ ৩০,০০০ টাকা ভর্তুকি সরাসরি DBT-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কী কী নথি লাগবে?
সোলার প্যানেলের জন্য আবেদন করতে মূলত যে নথিগুলি প্রয়োজন, সেগুলি হলো—
আবেদনকারীর নামে থাকা বিদ্যুৎ বিল
কনজিউমার নম্বর ও অনুমোদিত লোডের তথ্য
বৈধ পরিচয়পত্র (আধার বা ভোটার কার্ড)
বাতিল চেক ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য
বাড়ির মালিকানার নথি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি
সচল মোবাইল নম্বর
খরচ কত হতে পারে?
বাজারে সোলার প্যানেল বসানোর আনুমানিক খরচ নির্ভর করে ক্ষমতার ওপর—
১ কিলোওয়াট: ৫৫,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকা
২ কিলোওয়াট: ১.১০ লক্ষ থেকে ১.৪০ লক্ষ টাকা
৩ কিলোওয়াট: প্রায় ১.৬০ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা
তবে প্যানেল, ইনভার্টার ও ইনস্টলেশনের মান ভেদে খরচে তারতম্য হতে পারে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মোটা অঙ্কের ভর্তুকি হাতে পেলে এই প্রাথমিক খরচ অনেকটাই কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিলের দুশ্চিন্তা থেকে চিরতরে মুক্তি মেলে।