পুরভোটে বাজিমাত করতে বিজেপির মেগা বৈঠক! আদি-নব্য বিতর্ক মুছে কর্মীদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কড়া বার্তা সুকান্তের

আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই ঘর গোছাতে শুরু করল বিজেপি। মঙ্গলবারে বেলেঘাটা বিধানসভা এলাকার ডিলিমিটেশন-পরবর্তী ৪৫ নম্বর (প্রাক্তন ২৯ নম্বর) ওয়ার্ডের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক সারলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরভোটে বিজেপির ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার। বৈঠক শেষে পুজো কার্নিভাল থেকে শুরু করে ছাত্র রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন তিনি।

রাস্তা বন্ধ করে কার্নিভাল নয় ও রক্তপাতহীন ছাত্র রাজনীতি: রেড রোডে রাস্তা বন্ধ করে পুজো কার্নিভাল আয়োজনের বিরোধিতা করে আগেই নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিজেপি সরকার প্রথম থেকেই প্রমাণ করেছে যে সরকার কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য কাজ করে না, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের জন্য কাজ করে। রাজ্য সরকার এখন সেই আদর্শ মেনেই একাধিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।”

পাশাপাশি, সম্প্রতি এবিভিপি ও এসএফআই-এর মধ্যে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি কখনোই যেন রক্তক্ষয়ী না হয়, আমরা তা চাই না। অতীতে এসএফআই বারবার এবিভিপির কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, যা এবার বন্ধ হওয়া দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পাশাপাশি সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা ও আলোচনা চলতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই সহিংসতার দিকে না যায়।”

পুরভোটে জয় পেতে কর্মীদের ৫ দফা ‘মাস্টারপ্ল্যান’:

বৈঠক থেকে আগামী নির্বাচনের লক্ষ্য স্থির করতে কর্মী-সমর্থকদের পাঁচটি বিশেষ নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী:

  • বিরোধী সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছানো: শুধু দলীয় সমর্থক নয়, এলাকার সমস্ত বিরোধী দলের সমর্থকদের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে বিগত তিন মাসে কী কী কাজ করেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কী কী প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, তা তথ্যাদি দিয়ে বোঝাতে হবে।

  • আদি-নব্য বিতর্ক ভুলে ঐক্যবদ্ধ লড়াই: দলে আদি ও নবীন কর্মীদের কোনো বিভাজন রাখা চলবে না। পুরভোটে জয়ের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে মিলে কাজ করতে হবে। পুরনো বা আদি কর্মীদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁদের মতামত নিয়েই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

  • ২৩ জনের বিশেষ কমিটির সমন্বয়: কলকাতা পুরসভার জন্য গঠিত ২৩ সদস্যের কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মত কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে।

  • জনগণকে পরিষেবা দান: বেলেঘাটায় তৃণমূলের বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি ওয়ার্ডে মানুষের সাধারণ ও দৈনন্দিন সমস্যাগুলোর কথা শুনতে হবে এবং সেগুলো সমাধানের আন্তরিক উদ্যোগ নিতে হবে।

  • দক্ষতা দিয়ে মানুষের মন জয়: কোনো অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করে বরং নিজেদের কর্মপদ্ধতি, দক্ষতা ও আন্তরিকতা দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।

সুকান্ত মজুমদার নির্দেশ দিয়েছেন, আজ থেকেই ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে প্রচার ও সংযোগ বাড়াতে হবে। কেবল ভোটের কথা না বলে মানুষের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ বাৎলে দেওয়াই হবে এই নির্বাচনের মূল কৌশল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *