সামান্য টাকার জন্য বারবার কোম্পানি বদল কেন বিপজ্জনক? কর্পোরেট দুনিয়ায় ঝড় তুলল এই পোস্ট

বেতন বৃদ্ধির জন্য ঘন ঘন চাকরি বদলানোর ট্রেন্ড আজকাল কর্পোরেট জগতে জলভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই অভ্যাস কি আদপেই লাভজনক? পুনের এক প্রযুক্তিবিদের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বর্তমানে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর স্পষ্ট দাবি, একটি নির্দিষ্ট আয়ের স্তরে পৌঁছে যাওয়ার পর সামান্য টাকার জন্য বারবার চাকরি পরিবর্তন করা বুদ্ধিমানের কাজ তো নয়ই, বরং বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে পুনের নিহার পাটিল নামের ওই ব্যক্তি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, মাসিক বেতন যখন দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বা তার বেশি হয়ে যায়, তখন ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার সামান্য ইনক্রিমেন্টের জন্য কোম্পানি বদলানো বোকামি। কারণ, ভারতে এই বাড়তি টাকার ওপর কর বা ট্যাক্স কেটে নেওয়ার পর হাতে বিশেষ কিছুই থাকে না। উপরন্তু, নতুন জায়গায় গিয়ে নিজের কাজের সুনাম নতুন করে তৈরি করতে হয় এবং কাজের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।

পুরাতন সংস্থায় ভালো প্রজেক্ট, সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং কর্মক্ষেত্রে যে স্থিতিশীলতা তৈরি হয়, বারবার চাকরি বদলালে তা নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া নতুন সংস্থায় যোগ দিলে কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে ‘লাস্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ বা সবার শেষে আসা কর্মীকে ছাঁটাই করার ঝুঁকিও সবচেয়ে বেশি থাকে।

নিহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছানোর পর শুধু বেতনের পেছনে না ছুটে অফিসের পরের সময় অর্থাৎ বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সময়টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো উচিত। এই চার ঘণ্টায় নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন, নিজের শখ পূরণ কিংবা অতিরিক্ত আয়ের জন্য একটি বিকল্প উৎস বা সাইড হাসল তৈরি করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট পর্যায় পার করার পর লক্ষ্য শুধু একটি চাকরির বেতনের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা হওয়া উচিত নয়, বরং জীবনের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও মানসিক শান্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *