বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা মাতৃত্বে দেশের শীর্ষে বাংলা! কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

এবার বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকা মাতৃত্ব রুখতে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। এই দুই গুরুতর সামাজিক সমস্যায় সারা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম স্থানে উঠে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা মাতৃত্বের মতো অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র অধীনে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের সমস্ত রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
ছয় মাসে ৬০ হাজার নাবালিকা মাতৃত্বের ঘটনা
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন) রাজ্যে প্রায় ৬০ হাজার নাবালিকা মাতৃত্বের ঘটনা সামনে এসেছে। স্বাস্থ্য দফতরের এই তথ্যে দেখা গেছে, এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা, যেখানে নাবালিকা প্রসূতির সংখ্যা ১২ হাজার ৮৪৭ জন। এরপরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৪১৭৮), পূর্ব বর্ধমান (৩৭৭৭) এবং মালদা (৩৭৪৩)। স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সমস্ত প্রসবই সরকারি হাসপাতালে সংঘটিত হয়েছে।
কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও শোকজ নোটিশ
ইতিমধ্যে এই নাবালিকাদের স্বামীদের স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে শোকজ নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বয়স প্রমাণ করতে হবে। স্ত্রীর বয়স ন্যূনতম ১৮ এবং স্বামীর বয়স ২১ বছর না হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু স্বামী নয়, এই ধরনের বিয়েতে মদতদাতা পুরোহিত, কাজী কিংবা বাবা-মা—কাউকেই রেয়াত করা হবে না। পকসো আইনের ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো চরম শাস্তিও হতে পারে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়লে স্কুল সার্টিফিকেট বা অন্যান্য বৈধ নথি যাচাই করে ধর্ম বা জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।