জ্বর হলে কি স্নান করা উচিত না কি বাড়ে বিপদ? ডাক্তারদের আসল সত্যটা জানলে চমকে যাবেন!

জ্বর হলে স্নান করা নিয়ে যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে নানা ভয় ও ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। বাড়ির প্রবীণরা যেমন বারবার বারণ করেন, তেমনই অনেকেরই ধারণা জ্বরে স্নান করলে ঠান্ডা লেগে শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাবে। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন সম্পূর্ণ উল্টো কথা। সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা মেনে চললে জ্বরের সময় স্নান করা কেবল নিরাপদই নয়, বরং শরীর সতেজ রাখতেও দারুণ সাহায্য করে।
চিকিৎসকরা কী বলছেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হালকা থেকে মাঝারি ধরনের জ্বর (১০০ থেকে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) থাকলে স্নান করা সম্পূর্ণ নিরাপদ। এতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসে, গায়ের ঘাম ও জমে থাকা জীবাণু দূর হয় এবং শরীর চনমনে ও ঝরঝরে হয়ে ওঠে। তবে এই সময়ে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:
-
কুসুম গরম জলের ব্যবহার: জ্বরের সময় ভুলেও ঠান্ডা জলে স্নান করা যাবে না। ঠান্ডা জল গায়ে পড়লে কাঁপুনি দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। সবসময় হালকা গরম বা কুসুম গরম জল (Lukewarm Water) ব্যবহার করুন, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এবং আরাম দিতে সাহায্য করে।
-
কম সময়ে স্নান সারুন: জ্বরের দুর্বল শরীরে ৫ থেকে ৭ মিনিটের বেশি সময় ধরে স্নান করা একদমই উচিত নয়। বেশিক্ষণ জলে ভিজলে মাথা ঘোরাতে পারে এবং শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
-
মাথায় জল দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা: যদি ১০২ ডিগ্রির বেশি জ্বর থাকে বা অতিরিক্ত দুর্বলতা অনুভূত হয়, তবে মাথায় সরাসরি জল না ঢেলে ‘স্পঞ্জ বাথ’ বা গা মুছে নেওয়া ভালো। ঈষদুষ্ণ জলে তোয়ালে ভিজিয়ে ভালো করে হাত, পা ও শরীর মুছে নিলেই শরীরের বাড়তি তাপমাত্রা কমে যায়।
-
স্নানের পরের যত্ন: স্নান শেষ করেই দেরি না করে শুকনো তোয়ালে দিয়ে গা ভালো করে মুছে ফেলতে হবে। ভেজা চুলে বা ফ্যান-এসির হাওয়ায় বেশিক্ষণ বসে থাকা চলবে না। অবিলম্বে পরিষ্কার ও শুকনো জামাকাপড় পরে নেওয়া উচিত।
কখন স্নান করা একেবারেই বারণ?
সব ক্ষেত্রে কিন্তু স্নান করা নিরাপদ নয়। কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা স্নান করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেন:
-
শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে এবং ঘন ঘন কাঁপুনি উঠলে।
-
ডেঙ্গু, নিউমোনিয়া কিংবা ঠান্ডা লেগে বুকে কফ বা সংক্রমণ জমলে।
-
স্নানের চিন্তা করলেই যদি অতিরিক্ত দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার সমস্যা হয়।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে জোর করে স্নান না করে গা মুছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজনে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।