তারাপীঠে পান্ডাদের ধরতে হবে না, এবার থেকে ঘরে বসেই মিলবে ভিআইপি দর্শনের টিকিট

কৌশিকী অমাবস্যার ভিড় সামাল দিতে এবং পুজোয় স্বচ্ছতা আনতে তারাপীঠ মন্দিরে চালু হলো অনলাইন ভিআইপি টিকিট ব্যবস্থা। এখন থেকে ঘরে বসেই নির্দিষ্ট মূল্যে টিকিট কেটে মা তারার দর্শন করতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দালাল রাজের অভিযোগ দূর করতেই বীরভূম জেলা প্রশাসন ও মন্দির কমিটির এই যৌথ উদ্যোগ।
নতুন নিয়মে কীভাবে মিলবে প্রবেশ? রবিবার থেকেই এই অনলাইন পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে ৫০০ টাকা পেমেন্ট করে টিকিট কাটতে হবে পুণ্যার্থীদের। মন্দিরের গেটে সেই টিকিটের কিউআর কোড স্ক্যান করার পরই ভিআইপি লাইনে প্রবেশের অনুমতি মিলবে। আপাতত পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিদিন মাত্র ৫০০ জন পুণ্যার্থী অনলাইনে এই টিকিট বুক করার সুযোগ পাবেন। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তীতে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং টিকিটের পাশাপাশি পুজোর নির্দিষ্ট সময় বা টাইম স্লট বুকিংয়ের ব্যবস্থাও করা হতে পারে।
দূর হবে টিকিটে অনিয়ম ও অতিরিক্ত দামের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে খবর, তারাপীঠ মন্দিরে ভিআইপি দর্শনের ব্যবস্থা আগে থেকেই ছিল এবং টিকিটের সরকারি দাম ছিল ৫০০ টাকা। কিন্তু বিগত দিনে টিকিট বিক্রিতে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না থাকায় বহু পুণ্যার্থীর কাছ থেকে ইচ্ছামতো ১০০০ বা ২০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠত। সেই অতিরিক্ত জালিয়াতি ও বিশৃঙ্খলা রুখতেই এই অনলাইন ব্যবস্থা। রবিবার এই পরিষেবার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা, মহকুমা শাসক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য সেবায়েতরা। নতুন এই ব্যবস্থার প্রথম অনলাইন টিকিট ৫১২ টাকা দিয়ে কেটে মা তারার পুজো দেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা নিজেই।
মন্দির কমিটির আশা, নতুন এই ডিজিটাল পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে সাধারণ পুণ্যার্থীরা দালালদের হাত থেকে রেহাই পাবেন এবং লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা ছাড়াই খুব সহজেই মা তারার মুখ দর্শন করতে পারবেন।