সোনা কেনার সেরা উপায় কোনটা জানেন কি? কম খরচে লাখ লাখ টাকা রিটার্ন পাওয়ার সিক্রেট ফর্মুলা!

ভারতে সোনা কেনা মানেই শুধুমাত্র সাজগোজ বা গয়না তৈরি নয়, মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি অন্যতম নিরাপদ আর্থিক সঞ্চয়। কিন্তু বর্তমান বাজারে ফিজিক্যাল সোনা, গোল্ড ইটিএফ (Gold ETFs) এবং সভরিন গোল্ড বন্ড বা এসজিবি (SGBs)—এই তিনটির মধ্যে কোনটি বেছে নেওয়া সবচেয়ে লাভজনক, তা নিয়ে অনেকেরই ধন্দ থাকে। তিনটি বিকল্পই সোনার দাম বাড়ার সুফল দিলেও এদের করের নিয়ম, অতিরিক্ত খরচ এবং টাকা তোলার শর্তে রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাত।

সোনা কেনার আগে এই মাধ্যমগুলির আদ্যোপান্ত জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি:

  • ফিজিক্যাল সোনা (Physical Gold): সোনার মুদ্রা, বার বা গয়না কেনার সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম এটি। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সোনা সরাসরি আপনার হাতের নাগালে থাকে। তবে এতে খরচ বেশ বেশি। গয়না বা সোনা কেনার সময় ৩ শতাংশ জিএসটি দিতে হয়, পাশাপাশি মেকিং চার্জ বা তৈরির খরচ তো আছেই। ২৪ মাসের আগে এটি বিক্রি করলে ইনকাম ট্যাক্স স্ল্যাব অনুযায়ী শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেইন (STCG) এবং এর পরে বিক্রি করলে ১২.৫ শতাংশ হারে লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন (LTCG) দিতে হয়। তবে এতে কোনো ইনডেক্সেশনের সুবিধা পাওয়া যায় না।

  • গোল্ড ইটিএফ (Gold ETFs): যারা বাড়িতে সোনা রাখার ঝামেলা বা চুরির ভয় এড়াতে চান, তাদের জন্য এটি দারুণ বিকল্প। স্টক এক্সচেঞ্জে ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এটি কেনাবেচা করা যায়। ফিজিক্যাল সোনার তুলনায় এর সুবিধা হলো, ১২ মাসের বেশি সময় গোল্ড ইটিএফ ধরে রাখলেই তা লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন (LTCG)-এর আওতায় চলে আসে এবং ১২.৫ শতাংশ কর দিতে হয়। স্বল্পমেয়াদী বা ১-২ বছরের বিনিয়োগের জন্য এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক।

  • সভরিন গোল্ড বন্ড (SGB): বাকি দুটির চেয়ে এসজিবি কিছুটা আলাদা এবং বেশ লাভজনক। এটি শুধু সোনার বাজারদর বাড়ার সুযোগই দেয় না, এর পাশাপাশি প্রতি বছর নির্দিষ্ট ২.৫ শতাংশ হারে নিশ্চিত সুদ দেয়। এই সুদ সাধারণত প্রতি ছয় মাস অন্তর বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে জমা হয়, যা করযোগ্য।

তাই আপনার বিনিয়োগের মেয়াদ এবং সুবিধার ওপর ভিত্তি করে সঠিক মাধ্যমটি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *