আড়াই বছরেও শেষ হয়নি নতুন কাজের কাজ! জরাজীর্ণ সেতু ভেঙে পূর্ণিয়ায় বড় বিপর্যয়, অল্পে বাঁচলেন চালক

চোখের পলকে চোখের সামনে ভেঙে পড়ল পুরোনো লোহার সেতু। অতিরিক্ত বালুবোঝাই একটি ট্রাক মাঝ সেতুতে উঠতেই জরাজীর্ণ কাঠামো তার ভার সামলাতে পারেনি। সোজা নদীতে গিয়ে পড়ে ট্রাকটি। রবিবার সকালে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের পূর্ণিয়া জেলার আমৌর ব্লকের টিয়ারপাড়া পঞ্চায়েতের আসিয়ানি ঘাটে। পারমান নদীর ওপর তৈরি ওই সেতু ভেঙে পড়ায় আশপাশের বহু গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সৌভাগ্যবশত, বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রাকটি যখন সেতু ভেঙে নিচের দিকে নামতে শুরু করে, তখন চালক চরম বিপদের আশঙ্কা বুঝতে পেরে সময়মতো ক্যাবিন থেকে লাফিয়ে পড়েন। এর ফলে তিনি অক্ষত অবস্থায় নিজের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন। তবে ট্রাকটি নদীর জলের মধ্যে তলিয়ে যায় এবং সেতুর লোহার অংশ ভেঙে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
এই দুর্ঘটনার জেরে জালালগড়-আমৌর সংযোগ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এখন লোকজনকে যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার ঘুরপথ ধরতে হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, রোগী, শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। নদী পারাপারের জন্য এখন ভরসা বলতে একমাত্র নৌকা, যা এই বর্ষার মরশুমে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ মূলত প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাঁদের অভিযোগ, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। এর পাশেই একটি নতুন কংক্রিটের সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় আড়াই বছর আগে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র দুটি স্তম্ভের কাজ শেষ হয়েছে। এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি, নতুন সেতুটির নির্মাণকাজ যদি সময়মতো শেষ হতো, তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখ দেখতে হতো না। পাশাপাশি, নিয়মকে পাশ কাটিয়ে কীভাবে ওই সেতুর ওপর দিয়ে অতিরিক্ত মালবোঝাই ভারী ট্রাক চলাচল করছিল, তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ মানুষ।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই পল্লী পূর্ত বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের দল এবং আমৌর ব্লকের বিডিও সাবিনা খাতুন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং উদ্ধারকাজ চালাতে সেখানে এসডিআরএফ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। নদীর ওপর যাতায়াতের বিকল্প কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় প্রশাসন এখন দ্রুত পরিস্থিতির মোকাবিলা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।